নয়াদিল্লি, ২২ এপ্রিলঃ শিশু ধর্ষণে আজ থেকে চালু হল নয়া আইন। ১২ বছরের নীচে দোষী সাব্যস্ত শিশু ধর্ষকদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। শনিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা এই সংক্রান্ত একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। আজ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সেই অর্ডিন্যান্সে সই করলেন।

ফৌজদারি আইন(সংশোধনী) অর্ডিন্যান্স ২০১৮ অনুসারে, এখন থেকে এ ধরনের মামলার জন্য নতুন ফাস্ট-ট্রাক আদালত তৈরি হবে এবং সমস্ত থানাগুলিকে বিশেষ ফরেনসিক কিটস দেওয়া হবে।
১৬ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত মেয়েদের ধর্ষণের জন্য কঠোর সাজা এবং ১২ বছরের কম মেয়েদের ধর্ষণের ক্ষেত্রে হবে মৃত্যুদণ্ড। ধর্ষণের ক্ষেত্রে ন্যুনতম সাজা সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে, যা যাবজ্জীবনও হতে পারে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
১৬ বছরের কম কোনও মেয়েকে গণধর্ষণের ক্ষেত্রে দোষীদের সারা জীবনের জেলের সাজা হবে।
১২ বছরের কম মেয়েকে ধর্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর সাজার সংস্থান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ন্যুনতম সাজা ২০ বছরের জেল, যা যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
নয়া অর্ডিন্যান্সে দ্রুত তদন্ত ও বিচারের বন্দোবস্তের কথা বলা হয়েছে। সমস্ত ধরনের ধর্ষণের মামলায় তদন্তের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দু’মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। বিচারের সময়সীমাও দু’মাস করা হয়েছে। আপিল মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে ছ’মাসের মধ্যে।
অর্ডিন্যান্সে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের নীচের কাউকে ধর্ষণ বা গণধর্ষণ করলে অভিযুক্তরা আগাম জামিনও পাবেন না।

শিশুধর্ষণে আইন করে সংশোধনী আনতে অনেক সময় লাগবে। তাই অর্ডিন্যান্স জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্ডিন্যান্সের মেয়াদ ছ’মাস। এই ছ’মাসের মধ্যে সংসদে পসকো আইনে সংশোধনী এনে তা পাশ করাতে হবে। আইনমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সংসদের বাদল অধিবেশনে এই সংশোধনী আনা হবে।