কৃষকদের পাশে বিরোধীরা, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট ১৬ দলের

250
সংগৃহীত ছবি

নয়াদিল্লি: বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রণংদেহি অবস্থানে বিরোধী শিবির। সংসদে প্রধান বিরোধীদল রূপে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ২৯ জানুয়ারি সংসদের সেন্ট্রাল হলে যৌথ কক্ষের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ১৬ রাজনৈতিক দল।

কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধিতায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সপা, বামেরা, শিবসেনা, আরজেডি সহ একাধিক দল। শীর্ষ কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত। এর আগে তিনটি কৃষি আইন বিরোধীদের দাবি না মেনে, সংসদের দুই কক্ষে পাশ করায় সরকার। বাজেট অধিবেশনের শুরুতে কৃষি আইনের বিরোধিতায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া বার্তা পাঠাতে চায় বিরোধীরা, এমনটাই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহলের একাংশ।

- Advertisement -

তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কংগ্রেসের তরফে আসা এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত। আমরা এর সমর্থন করছি। ২৯ জানুয়ারি সংসদের কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেবে না তৃণমূল, জানান সুদীপ। রাজ্যসভায় দলের চিফ হুইপ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, কেন্দ্র সরকার যাবতীয় প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে কৃষি আইন পাশ করানো হয়েছে সংসদে। সেই সরকারের প্রশস্তি শোনার কোনও ইচ্ছা নেই। সিপিআই নেতা ডি রাজার মতে, এই বয়কট সর্বাত্মক করার উদ্দেশ্য একটাই। কৃষকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। অন্নদাতাদের বঞ্চিত করে কেন্দ্রের মিথ্যা প্রশস্তি চাই না। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরির কণ্ঠে। অবিলম্বে কৃষি আইন প্রত্যাহার করুক কেন্দ্র, দাবি তাঁর।

প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্র‌্যাক্টর র‌্যালিকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির বুকে যে হিংসা, অরাজকতা দেখা গিয়েছিল তার ফলে এই মুহূর্তে অনেকটাই ব্যাকফুটে কৃষক আন্দোলন। ট্র‌্যাক্টর র‌্যালিতে হওয়া ব্যাপক অরাজকতা ও হিংসার দায় কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের পালা। জাতীয় ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগে কৃষকদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ট্র‌্যাক্টর র‌্যালির ব্যর্থতা সামনে রেখে ১ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবন অভিযান বাতিল করেছে কৃষকরাও। এই পরিস্থিতিতে এবার কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়াল বিরোধী দলগুলি।