বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় কর্মসূচি করল তৃণমূল

58

হলদিবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া, ২৩ ফেব্রুয়ারিঃ হলদিবাড়ি-এনজেপি রুটে স্পেশ্যাল প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালিয়ে অত্যাধিক ভাড়া বৃদ্ধি করে রিজার্ভেশন টিকিট চালু করা হয়েছে। ট্রেন ছাড়ার অনেক আগেই টিকিট কাটতে হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ষ্টেশনে স্টপেজও দেওয়া হচ্ছে না। এভাবেই পরিকল্পনা করে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে কেন্দ্রের রেলমন্ত্রক। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রী কম হওয়ায় ট্রেনের আয় কম হচ্ছে। আগামী দিনে রেভিনিউ আদায় হচ্ছে না বলে রেলমন্ত্রকের তরফে এই রুটে প্যাসেঞ্জার ট্রেন তুলে নেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে না তো। সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান।

সোমবার রাতে হলদিবাড়ি শহরের হাসপাতাল পাড়ার নিজস্ব বাসভবনে দলীয় নির্দেশে আয়োজিত সাংবাদিক সন্মেলনে ওই আশঙ্কার কথা বলেন বিধায়ক। এদিন ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগানকে সামনে রেখে সাংবাদিক সন্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এই স্লোগানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, মুঘল আমল, ব্রিটিশ আমল বা বামফ্রন্ট আমলেও রাজ্যের যে উন্নয়ন হয়নি তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের সর্বত্র তার কয়েকগুণ অধিক উন্নয়ন করেছে। শিশুর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য এই সরকার বহু প্রকল্প শুরু করেছে। বাংলার মানুষকে নিজের সংসারের ন্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা রূপে আগলে রেখেছেন।

- Advertisement -

অথচ উলটো দিকে কেন্দ্র সরকার দেশের লাভজনক সংস্থাকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের ৭০ বছরের সম্পদ ধ্বংস করে দেওয়ার নেশায় মেতেছে। এই অপচেষ্টা ঠেকাতেই ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। এদিনের সাংবাদিক সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান, হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জের ব্লক কমিটির সভাপতি যথাক্রমে অমিতাভ বিশ্বাস ও উদয় রায়, হলদিবাড়ি শহর তৃণমূলের সভাপতি শঙ্কর দাস প্রমুখ।

পাশাপাশি, শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকেও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বাংলা নিজের মেয়েকেই চাই শীর্ষক কর্মসূচি শুরু করা হল। সোমবার ফাঁসিদেওয়া সাংগঠনিক ১ নম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দলীয় কার্যালয়ে এবং ফাঁসিদেওয়া সাংগঠনিক ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস বিধাননগরে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ফাঁসিদেওয়াতে মহম্মদ আইনুল হক ও বিধাননগরে কাজল ঘোষ সাংবাদিকদের নিয়ে সন্মেলন করেন। সেখান থেকেই রাজ্যে শাসকদলের নানান প্রকল্পে কথা তুলে ধরা হয়।

কাজল ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের জন্য কাজ করছে। বিজেপি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সব বুঝে গিয়েছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন৷ ফাঁসিদেওয়াতে মহম্মদ আইনুল হক বলেন, রাজ্য সরকার মানুষের স্বার্থে সমস্তরকম কাজ করে চলেছে। আগামীতেও উন্নয়নের কাজ অব্যহত থাকবে। আগামী বিধানসভা ভোটে ফাঁসিদেওয়াতে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেন আইনুল বাবু।