দাম নেই, গবাদি পশুকে দিয়ে বাঁধাকপি খাওয়াচ্ছেন অসহায় কৃষকরা

92

ময়নাগুড়ি : আলু চাষে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল। ময়নাগুড়ির চাষিরা তাই ভেবেছিলেন, বাঁধাকপি ফলিয়ে সেই ক্ষতির ধাক্কাটা কিছুটা হলেও সামলে উঠবেন। তাই বেশি দাম দিয়ে সার, বীজ কিনে জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। আর সেটাই কাল হল তাঁদের। ফসল ভালো হয়েছে বটে, কিন্তু বাজারে দাম নেই। এদিকে, চড়া দামে বীজ, রাসায়নিক সার কিনে জমিতে ফসল ফলিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু বাজার যে এভাবে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি। তাই ফসল জমিতেই পড়ে আছে এখন। বাজারের দাঁড়িপাল্লায় বিকোবার পরিবর্তে সেই ফসল এখন গোরু-ছাগলের মহাভোজে পরিণত।

ময়নাগুড়ির মরিচবাড়ির কৃষক দেবারু রায়ের কথায়, চার বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে দাম তলানিতে ঠেকেছে। ওই দামে চাষের খরচটুকুও উঠবে না। তাই জমিতেই বেশিরভাগ ফসল পড়ে আছে এখন। মাধবডাঙ্গার আরেক চাষি রমনী অধিকারী বলছেন, আলুর তেমন দাম পাইনি। ভেবেছিলাম বাঁধাকপি চাষ করে ক্ষতিটা পুষিয়ে নেব। তাই সারের দাম বস্তাপিছু ২৫০ টাকা বাড়লেও বুকে আশা নিয়ে জমিতে বাঁধাকপির চাষ করেছিলাম। কিন্তু বাজার যে এভাবে পড়ে যাবে, তা ভাবিনি। আলু তো আশা ভেঙেইছিল। বাঁধাকপিতেও এবার ভরাডুবি হল। এখনও জমিতেই পড়ে আছে বাঁধাকপি। ময়নাগুড়ি ব্লক কৃষি আধিকারিক কৃষ্ণা রায় অবশ্য চাষিদের এই ক্ষতির খবর জানেন। তিনি বলেন, বাঁধাকপির মরশুম এখন শেষের দিকে। ব্লকজুড়েই এবছর প্রচুর বাঁধাকপি উৎপন্ন হয়েছে। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণেই বাজারে দাম কমে গিয়েছে।

- Advertisement -

কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে একটা আলাদা পরিচিতি রয়েছে ময়নাগুড়ি ব্লকের। ব্লকের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকানির্বাহ করেন। জমির উর্বরতা শক্তি বেশ ভালো হওয়ায় প্রতিবছর রেকর্ড পরিমাণ ফসল উৎপন্ন হয় এখানে। অনেক জমি আছে, যেগুলি বিশেষত দোফসলি বা তিনফসলি হিসেবেই পরিচিত। ধান, পাট, আলুর পাশাপাশি বিভিন্ন মরশুমের সবজিও চাষ হয় এইসব জমিতে।

এবারও ব্লকের অনেক চাষি জমিতে বাঁধাকপির চাষ করেছিলেন। ফলনও ভালো। কিন্তু ময়নাগুড়ি, বৌলবাড়ি, ময়নাগুড়ি রোড, রাজারহাট, জল্পেশ হাট কিংবা ময়নাগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার- কোথাও বাঁধাকপির ভালো দাম নেই। চাহিদা কমে যাওয়ায় সেভাবে রপ্তানিও নেই। পাইকারি বাজারে বাঁধাকপি বিকোচ্ছে ২ টাকা কেজিরও কমে। তার ওপর গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে অনেক জমিতে এখন বাঁধাকপি পচতে শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়ে জমির ফসল জমিতেই ফেলে রেখেছেন চাষিরা।