দাম কমার লক্ষণ নেই, মুনাফার লোভে উত্তর-পূর্বে আলু পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

250

বিধান সিংহরায়, পুণ্ডিবাড়ি : জেলাজুড়ে আলুর দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সেসময়  জেলার জন্য পর্যাপ্ত জোগানের দিকে নজর না দিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী কোচবিহারের বিভিন্ন হিমঘর থেকে লরিতে আলু বোঝাই করে উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠাচ্ছেন। অধিক মুনাফার লোভে চাষিদের থেকে কেনা দামের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে আলু ভিনরাজ্যে পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই খুচরো ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দিনের পর দিন আলু ভিনরাজ্যে যাওয়ায় কোচবিহার জেলায় আলুর দাম কমা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হাটবাজারে বর্তমানে লাল আলু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা এবং সাদা আলু ৩২ থেকে ৩৩ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সোমবার এই দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলে জানা গিয়েছে। কোচবিহার-২ ব্লকের পুণ্ডিবাড়ি এবং খোল্টা এলাকায় দুটি হিমঘর রয়েছে। ওই দুটি হিমঘরের সামনে আলু ব্যবসায়ীদের মোট ১৬ টি আলুর গোডাউন রয়েছে। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে আলুর চড়া বাজার থাকায় অধিক মুনাফার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি বড় ট্রাকে আলু রপ্তানি চলছে।

- Advertisement -

খুচরো ব্যবসায়ী লক্ষ্মণ দাস, অমল দাস, দুলাল বর্মন জানান, এ বছর আড়তদারের থেকে লাল আলু ২৮ থেকে ২৯ টাকা এবং সাদা আলু ২৬ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। তারপর গাড়িভাড়া দিয়ে আলু বহন করে আনার পর দেখা যাচ্ছে ৩ থেকে ৪ কেজি আলু খারাপ বের হচ্ছে। তাই খুচরো দামে বিক্রি না করলে তাঁদের কিছুই থাকছে না। ক্রেতা দিলীপ রায়, রফিকুল মিযাঁ, সৌমেন দাস সহ আরও অনেকে জানান, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই আগের মতো কাজকর্ম নেই। তার মধ্যেই আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা বেড়েছে।

জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক চানমোহন সাহা বলেন, কোচবিহারে ১২টি হিমঘর রয়েছে। এ বছর সেগুলো পুরোপুরি ভর্তি হয়নি। গত তিন মাসে ৬০ শতাংশ আলু শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ আলুর ওপর আগামী তিন-চার মাস নির্ভর করতে হবে। আলু বাইরে যাওয়ায় তো বাধা দেওয়া যাবে না। আগে একবার সরকার বাধা দেওয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আলুর পরিমাণে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে খোল্টা এলাকায় অবস্থিত একটি হিমঘরের মালিক মৃন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, নভেম্বর মাসের পর উত্তরবঙ্গের মানুষ আর পুরোনো আলু খেতে চান না। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে আলুর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তাই সেখানে আলু পাঠানো হচ্ছে। প্রতিবছরই আলু পাঠানো হয়। তবে রাজ্য সরকার সহযোগিতা চাইলে আমরা তা করতে আগ্রহী। কোচবিহার-২ ব্লকের বিডিও থিনলে ফুন্টশোক ভুটিয়া জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশ পেলে পরিদর্শন করা হবে। বিভিন্ন অ্যাগ্রোমার্কেটিং এবং আরএমসির সঙ্গে বসে আলোচনা করে বাজারদর ঠিক করা হবে।