সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি, ১৮ মার্চঃ রাজ্য সরকারের গড়া টাস্ক ফোর্সের নজর এড়িযে দৈনন্দিন বাজারগুলিতে হু হু করে বাড়ছে কাঁচা সবজির দাম। আর সবজির ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে চাপ পড়ছে মধ্যবিত্ত গৃহস্থের পকেটে। পরিস্থিতি এমনই যে দুশো বা তিনশো টাকাতেও ভরছে না সবজির ব্যাগ।

পাইকারি ও খুচরো বাজারগুলিতে খোঁজ নয়ে জানা গিয়েছে, এই সময় এমনিতেই সবজির আমদানি কিছুটা অনিয়মিত হয। তার ওপর সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টিতে চাষের ব্যাপক ক্ষতি পাইকারি বাজারগুলিতে সবজির জোগান আরও কিছুটা কমিয়েছে। এই দুই কারণ মিলিয়ে অন্যবারের তুলনায় এবার সবজির পাইকারি দাম কিছুটা চড়া। আর পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার সুযোগে চড়ছে সবজির খুচরো দামও। এই সময় জেলায রানাঘাটের পটল, মুর্শিদাবাদের পেঁয়াজকলি, বাঁকুড়ার সজনা এবং মেদিনীপুর ও ওডিশা থেকে আসা ঢ্যাঁড়শ আসে। এছাড়া বাকি সবজি স্থানীয কৃষকদেরই ফলানো। বাইরে থেকে আসা এই সবজিগুলির দামেও পাইকারি ও খুচরো বাজারে দামের হেরফের প্রচুর।

জেলার সবচেয়ে বড়ো পাইকারি সবজি বাজার ধূপগুড়ি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজির পাইকারি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজকলি খুচরো বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিকোচ্ছে। ৬০-৬৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হওয়া পটল খুচরো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। ঠিক একইভাবে, সজনে ও ঢ্যাঁড়শ পাইকারি বাজারে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরো বাজারে তাদের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকাও ছাড়াচ্ছে। শুধু বাইরে থেকে আসা এইসব সবজিই নয়, স্থানীয কৃষকদের নিয়ে আসা সবজির পাইকারি দরের সঙ্গে খুচরো দামে বেশ ফারাক দেখা যাচ্ছে এই চড়া বাজারে।ধূপগুড়ি সুপার মার্কেটের পাইকারি সবজি আড়তের মালিক শান্তি বিশ্বাস, গোপাল সাহা জানান, কদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে জেলার অনেক জায়গাতেই ভয়ানক ক্ষতি হয়েছে। ফলে সবজির আমদানি তুলনায় একটু কম। সেই সঙ্গে শীতের সবজি এখন শেষ পর্যায়ে আবার গরমের সবজিও পুরোদমে ওঠেনি। ফলে নিয়মিত একই পরিমাণে আমদানি নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রচুর সবজির রপ্তানিও। বিহার, দক্ষিণবঙ্গ সহ প্রতিবেশী দেশ নেপালে প্রতিদিন প্রচুর সবজি যাচ্ছে। ফলে পাইকারি বাজারের দর কিছুটা বেশি রয়েছে।

খুচরো বাজারের ব্যবসায়ীরা অবশ্য দামের ফারাকের কথা মানতে চাননি। খুচরো সবজি বিক্রেতা গোকুল সাহা বলেন, পাইকারি সবজি বাজারে দাম স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। তার সঙ্গে পরিবহণ খরচ, ঘাটতি ও অন্য খরচ যোগ করে সামান্য লাভেই ব্যবসা করতে হচ্ছে। আরেক সবজি বিক্রেতা দীপেন রায বলেন, দাম বেশি বলে বিক্রিও মার খাচ্ছে তার ওপর একদিন ঘরে থাকলে সেই সবজি বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে। সবটা মিলিয়ে ধরলে পাইকারি ও খুচরো বাজারের দামে তারতম্য হবে না। ব্যবসায়ীদের যুক্তি যাই হোক না কেন, বাজারে যে দীর্ঘদিন যাবৎ টাস্ক ফোর্সের নজরদারি নেই তা প্রায় সকলেই মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ধূপগুড়ির বিডিও দীপঙ্কর রায় বলেন, সব সময় আনুষ্ঠানিকভাবে নজরদারি চালানো না হলেও নিযমিতভাবেই খোঁজ রাখা হয়। ব্যবসাযী সংগঠন, নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি সকলের সঙ্গেই ব্লক প্রশাসনের যোগাযোগ রয়েছে। কোথাও কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।