করোনাকালে বেহাল হয়েছে প্রাইমারি স্কুল

295

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : কোনও স্কুলের বারান্দার টিন ভেঙে গিয়েছে। আবার কোনও স্কুলের মাঠ দখল নিয়েছে বুনো গাছ, বড় বড় ঘাসে পা ডুবে যায়। করোনা সংক্রমণের কারণে আট মাসের বেশি সময় থেকে বন্ধ থাকায় এমনই পরিস্থিতি জলপাইগুড়ি শহরের সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলির একাংশের। স্কুলগুলি কবে খুলবে তার কোনও দিন এখনও জানানো হয়নি। সুতরাং স্কুল ভবনগুলির পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন জলপাইগুড়ির শিক্ষাবিদরা। তাঁদের বক্তব্য, স্কুলগুলির বেহাল পরিস্থিতির খবর মিলছে। এবছর ভারী বৃষ্টির জেরে বহু স্কুলের জানলা-দরজার হাল খারাপ হয়েছে। কিছু স্কুলের ভবনের দশাও ভালো নয়। ফলে স্কুলগুলি সংস্কার না করে কোনওভাবেই পঠনপাঠন শুরু করা সম্ভব হবে না। আর এর জন্য বহু টাকা খরচ হবে বলেও মনে করছে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলা শিক্ষা আধিকারিক মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে স্কুল ভবনের হাল খারাপ হতে পারে। মিড-ডে মিল বণ্টনের সময় ভবনগুলির অবস্থা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হবে।

জলপাইগুড়ি জেলায় ১,২০৩টি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে, এর মধ্যে শহরে আছে ৫২টি। এছাড়া কিছু জুনিয়ার হাইস্কুলও রয়েছে যেখানে প্রাথমিকস্তরের পঠনপাঠন হয়। এই স্কুলগুলির অধিকাংশরই সীমানাপ্রাচীর নেই। আবার বেশ কিছু স্কুলের ভবন দীর্ঘ বছরের পুরোনো। জলপাইগুড়ি শহরের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে দেখা গিয়েছে, ভবনের বারান্দার চাল ভেঙে গিয়েছে। ভবনের গায়ে জংলি গাছ গজিয়েছে। স্কুল চত্বরে যে মদের আসর বসে তার প্রমাণও মিলেছে। দেশবন্ধুপাড়ার একটি স্কুলের মাঠের ঘাস এতটাই বড় হয়েছে যে গোড়ালি ডুবে যাচ্ছে। স্কুলের আশপাশও জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্কুলে সীমানাপ্রাচীর নেই, সেগুলির অবস্থা আরও খারাপ। কয়েকটি স্কুলের বারান্দায় গোরু, ছাগল ঠাঁই নিয়েছে। এমনকি স্কুলের দরজা-জানলায় উইপোকা ধরে গিয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে জানলা-দরজা ভেঙেছে এমন স্কুলের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। শুধু শহর নয়, গোটা জেলাতেই প্রাইমারি স্কুলগুলির একাংশের এমন দশা বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

স্কুলগুলির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা বলেন, আট মাসের বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্কুলের ভবন খারাপ হয়েছে বলেও খবর পেয়েছি। সম্প্রতি ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের মিড-ডে মিল বণ্টনের দিন ঠিক করার জন্য চিঠি করা হয়েছে। এই থেকে বোঝা যাচ্ছে ওই দুই মাসেও স্কুল খুলছে না। যে কারণে ভবনগুলির পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলেই আমরা মনে করছি। সরকার স্কুল খোলার কথা ঘোষণা করলেও ভবন সংস্কার না করা পর্যন্ত পঠনপাঠন চালু করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক স্বপন বসাক বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমাদের বাড়ির পরিস্থিতিও খারাপ হয়। স্কুল ভবনগুলির হাল খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। রাজ্য সরকার সমস্ত দিক বিচার করেই স্কুল খুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।