অবসরের দীর্ঘ সময় পরেও পেনশন অমিল, প্রাথমিক শিক্ষকরা সমস্যায়    

799

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার: কেউ প্রায় দেড় বছর, কেউ আবার নয় মাস আগে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু এতদিন পেরিয়ে গেলেও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রচুর অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁদের প্রাপ্য পেনশন এবং গ্রুপ ইনসুরেন্সের টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পেনশনের জন্য তাঁদের কখনও এসআই অফিস তো কখনও ডিআই অফিসে চক্কর কাটতে হচ্ছে। অভিযোগ, ডিআই অফিসের গাফিলতির জন্যই শিক্ষকরা এই সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।

যদিও এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) সুজিত সরকার বলেন, যাঁরা অবসর নিয়েছেন তাঁদের কিছু নথিপত্রের সমস্যা ছিল। তবে আমরা আমাদের কাজ করে দিয়েছি। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ১২টি সার্কেল রয়েছে। প্রতিটি সার্কেলেই শিক্ষকদের পেনশন না পাওয়ার সমস্যা রয়েছে। বেশি সমস্যা রয়েছে আলিপুরদুয়ার সদর, আলিপুরদুয়ার পশ্চিম এবং মাদারিহাট সার্কেলে। এই সার্কেলগুলির প্রচুর শিক্ষক গত দুবছরে অবসর নিয়েছেন।

- Advertisement -

অভিযোগ, এসআই এবং ডিআই অফিস থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের থেকে বিভিন্ন সময় নানা নথিপত্র চাওয়া হলে কাগজপত্র জমা দেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তা সত্ত্বেও এখনও প্রচুর শিক্ষক-শিক্ষিকার পেনশন আটকে রয়েছে বলে অভিয়োগ। ডিআই অফিস থেকেই ওই নথিপত্র সঠিক সময়ে রাজ্যে না পাঠানোয় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। ২০১৯ সালের ৩০ জুন আলিপুরদুয়ার শহরের অরবিন্দনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছেন শিক্ষিকা নীলা নার্জিনারি। তিনি বলেন, ডিআই অফিস থেকে যখন যা যা নথি চেয়েছে সেই নথিই জমা দিয়েছি। কিন্তু নতুন করে ক্যালকুলেশন শিট চেয়েছে। আমরা জলপাইগুড়ি জেলায় থাকাকালীন চাকরি পেয়েছি। তাই ওই শিট আমাদের কাছে এখন থাকাও সম্ভব নয়। বিষয়টি ডিআই অফিসে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় আজও পেনশন পাচ্ছি না।

কালচিনির মধু চা বাগান ইউনিট-১ প্রাথমিক স্কুল থেকে অবসর নিয়েছেন শিক্ষক সুদীপ দেসরকার। তিনি বলেন, এসআই অফিস থেকে আমার স্যালারি শিট দিচ্ছে না। ওই শিট না থাকায় ডিআই অফিসেও জমা করতে পারছি না। তাই নয় মাস আগে অবসর নিলেও আমার পেনশন শুরু হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে অবসর নেওয়া অনেক প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার গচ্ছিত অর্থ যেমন শেষ তেমনি এঁদের অনেকেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার খরচ জোগাতে এখন তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।

এই বিষয়ে এবিপিটিএর জেলার সহ সম্পাদক প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ই-পেনশন ব্যবস্থায় এমন হওয়ার কথা নয়। দুটি অফিসই নিয়ম মেনে কাজ করছে না। তাই শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবসরের পরেও পেনশন থেকে বঞ্চিত। আমরা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ডিআইকে স্মারকলিপি দেব। তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষা সেলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি কৌশিক সরকার বলেন, ‘ই-পেনশন ব্যবস্থা চালুর জন্য একটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ডিআইএর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি, দ্রুত পেনশন চালু হয়ে যাবে।‘