রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী

369
রবিবার রাইসিনা হিলসে গিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নয়াদিল্লি: লাদাখে উত্তেজনা প্রশমনের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভারত-চিন সংঘাতের আবহে রবিবার রাইসিনা হিলসে গিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির লাদাখ সফরের ২ দিনের মধ্যে হওয়া এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ক্রমাগত তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী।

এলএসি-তে চিন ফের আগ্রাসী মনোভাব নিলে ভারতও যে কঠোর অবস্থান নেবে ঘটনা পরম্পরা সেদিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। কাশ্মীর থেকে সেনার একাংশকে লাদাখে পাঠানো হয়েছে। স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বায়ু সেনাও চিন সীমান্তে তৎপরতা বাড়িয়েছে। বায়ুসেনা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে বেশ কিছু সুখোই, জাগুয়ার ও মিরাজ ফাইটার জেটকে লেহ এবং শ্রীনগর বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে।

- Advertisement -

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উড়তে দেখা গিয়েছে একাধিক সুখোইকে। বিমানবাহিনীর একাধিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও মালবাহী চিনুক চপারও সেখানে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বায়ু সেনার এক আধিকারিক বলেন, ‘তিব্বতের বিমান ঘাঁটিগুলির শক্তি বাড়াচ্ছে চিন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই এলাকায় যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি।’

গত কয়েকদিনে গিলগিট-বাল্টিস্তান এলাকায় ৪৫ হাজারের বেশি পাক সেনার জমায়েত নজরে এসেছে।  লেহ ও শ্রীনগরের ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন চিন-পাকিস্তান দুই দেশকেই বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, লাদাখের পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ভবনের টুইটার হ্যান্ডলে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবগত করেছেন। রাষ্ট্রপতিভবনের তরফে টুইটারে বৈঠকের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে চিনা সেনার হামলায় ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলএসিতে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। শুক্রবার আচমকা লাদাখ সফরে গিয়ে নাম না করে চিনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। লাদাখ সফরের পর তাঁর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।