অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি : উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক স্তরের ভূগোল বিভাগে পাস ও অনার্স কোর্সের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুলের অভিযোগ উঠেছে। অনার্স ও পাস কোর্সের প্রথম সিমেস্টার এবং তৃতীয় সিমেস্টারের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ওই ভুল ধরা পড়েছে। ভুলগুলি এতটাই গুরুতর যে ছাত্রছাত্রীদের ওই প্রশ্নপত্র দেখে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়াই রীতিমতো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে কীভাবে প্রশ্নপত্রে ভুল থেকে গেল তা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নপত্র ভুলের জন্য শয়ে শয়ে পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যার জেরে কলেজে কলেজে ভূগোল বিভাগের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দেবাশিস দত্ত কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকার বলেন, এই ব্যপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলতে পারবে।

পড়ুয়াদের বক্তব্য, কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতে পরীক্ষা চলছে। ভূগোলের প্র্যাক্টিক্যালের  প্রশ্নপত্রে একাধিক দিন ভুল লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত ২১ নভেম্বর ভূগোলের প্রথম সিমেস্টারের পাস কোর্সে মোট ২০ নম্বরের পরীক্ষা ছিল। ২০ নম্বরের মধ্যে ৮ নম্বর পেলে পরীক্ষার্থীরা পাস করতে পারবেন। কিন্তু ওই দিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ১ নম্বর লিনিয়ার স্কেল আঁকতে বলা হয়েছে। যার আরএফ প্রশ্নপত্রে দেওয়া হয়েছে ১:৫০০০০। কিন্তু প্রশ্নপত্রে দেওয়া এই আর এফটির বদলে ১:৫০০০ হবে। এই ছবিটি আঁকার জন্য পরীক্ষার্থীরা ৫ নম্বর পাবেন।  কিন্তু অনেকেই প্রশ্নপত্রের ওই বিভ্রাটের জন্য সঠিকভাবে ছবি আঁকতেই পারেননি বলে অভিযোগ। একই দিনে ওই প্রশ্ন নম্বর ২ এর মধ্যে পরীক্ষার্থীদের যে প্রজেকশন আঁকতে বলা হয়েছে তার মধ্যে মানচিত্র অভিক্ষেপের কোনো স্কেল নেই। এই ছবি আঁকার জন্য ১০ নম্বর রয়েছে। অর্থাত্ একই দিনে মোট ২০ নম্বরের প্রশ্নপত্রের মধ্যে ১৫ নম্বরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভুল প্রশ্ন করেছে।

২২ নভেম্বর কোর কোর্স-১ প্রথম সিমেস্টারের অনার্স প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ২ নম্বর প্রশ্নপত্রে মানচিত্রের অভিক্ষেপ ভুল। মানচিত্রের অভিক্ষেপ যেখানে ১:১৭৫০০০০০ থাকার কথা, সেখানে মানচিত্রের অভিক্ষেপ রয়েছে ১:১৭৫০০০০০০। এই প্রশ্নের পূর্ণমান ১০ নম্বর। ২৩ নভেম্বর কোর কোর্স-২ এর প্রথম সিমেস্টারের অনার্স পরীক্ষায় ১ নম্বর প্রশ্নে জনবসতি বিন্যাসের ওপর ভূমিরূপের প্রভাব নিয়ে য়ে প্রশ্নটি করা হয়েছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেবাসের বাইরের বলে অভিযোগ। এই প্রশ্নের পূর্ণমান ৬ নম্বর। একইভাবে পাস কোর্সের জিই-৩ এর তৃতীয় সিমেস্টারের প্রশ্নপত্রে মানচিত্র অঙ্কনের কোনো স্কেল নেই। এই প্রশ্নের পূর্ণমান ১০ নম্বর। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, মালবাজার, ধূপগুড়ি, বীরপাড়া, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং পাহাড়ের যেসব কলেজে ভূগোল রয়েছে সেই সব কলেজের পরীক্ষার্থীরা এই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে এখন রীতিমতো চিন্তিত। পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ২০ নম্বরের মধ্যে ৮ নম্বর তুলতে না পারলে অনুত্তীর্ণ হতে হবে। সে ক্ষেত্রে এক বছর নষ্ট হবে। কিন্তু ২০ নম্বরের প্রশ্নপত্রে অনেক ভুল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই বর্তমানে শয়ে শয়ে পরীক্ষার্থীকে বর্তমানে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। পড়ুয়াদের আরেকটি অংশের বক্তব্য, পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্নপত্রে ভুল লক্ষ করা গেলেও পরীক্ষা চলাকালীন তাঁদের কোনো প্রশ্ন ঠিক করার ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকেই পরীক্ষার সময় বিভ্রান্ত হয়েছেন।