প্যারোলে মুক্ত বন্দিরা ফিরছে জেলে, উদ্বিগ্ন কারা দপ্তর

267

স্বরূপ বিশ্বাস, কলকাতা: জেলে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় তিন হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে প্রায় এক হাজার জন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে। যাদের গত মার্চ মাসে তিন মাসের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। বাকি দুই হাজার বিচারাধীন বন্দিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশেই এই তিন হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু জুলাই মাস পড়তেই তিন মাসের প্যারোলে প্রায় এক হাজার বন্দির মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় উদ্বিগ্ন রাজ্যের কারা দপ্তর।

প্যারোলের মেয়াদ শেষ হলেই চলতি মাসেই বন্দিরা আবার জেলে ফিরবে। এবার আবার সকলেই জেলে ফিরছে বাইরে থেকে। আর তাতেই জেলে নতুন করে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা কারা কর্তৃপক্ষের। এই অবস্থায় বন্দিদের প্যারোলের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো নিয়ে রীতিমতো চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের গড়া উচ্চ পর্যায়ের কমিটির কাছে এই ব্যাপারে দরবারও করা হয়েছে। কমিটিও বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গিয়েছে। বুধবার কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা হওয়ায় বৈঠকটি হয়নি। চলতি সপ্তাহেই আবার বৈঠকে বসার কথা কমিটির।

জেল সূত্রে খবর, রাজ্যের জেলাগুলিতে এখনও বন্দিদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক নয়। মাত্র দু’জন বন্দির শরীরে কিছুদিন আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মেলে। তারমধ্যে এক বন্দির করোনা মুক্তির পর তাকে প্যারোলে ছাড়া হয়েছে। যে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ফিরে গিয়েছে। বাকি আরেক বন্দির হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে আবার প্যারোলে মুক্ত বন্দিরা জেলে ফিরতে শুরু করায় উদ্বেগ বাড়ছে জেল কর্তৃপক্ষের। এমনিতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্যে প্রায় তিন হাজার বন্দির সাময়িক মুক্তিতে জেলগুলিতে চাপ অনেকটাই কমেছিল। তিন হাজার মুক্তির পরও এখনও রাজ্যের বিভিন্ন জেলে বন্দির সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। আবার বন্দিরা জেলে ফিরতে শুরু করলে ওই চাপ অনেকটাই বাড়বে বলে আশঙ্কা।