গুরু গ্রেগের টোটকায় পৃথ্বীর প্রত্যাবর্তন

মুম্বই : গ্রেগ চ্যাপেল। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বিতর্কিত এই চরিত্রই রয়েছে পৃথ্বী শা’র মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের পিছনে।

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে ব্যর্থতার পর প্রথম একাদশ থেকে ছিটকে যান পৃথ্বী। তারপর অবশ্য বিজয় হাজারে ট্রফিতে অন্য রূপে দেখা গিয়েছে এই মুম্বইকরকে। ওপেন করতে নেমে আট ম্যাচে চার শতরান সহ ৮২৭ রান করেছেন। বিশেষজ্ঞদের কথায়, পৃথ্বীর মূল সমস্যা ছিল ভেতরে আসা বলে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে দু ইনিংসে এমন ডেলিভারিই সাজঘরে পাঠিয়েছে তাঁকে। এমনকি আগে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচেও এমন বলের সামনে অসহায় দেখিয়েছে পৃথ্বীকে।

- Advertisement -

কোচ হিসেবে ব্যর্থ হলেও ব্যাটিংয়ে সমস্যা মেটাতে গ্রেগের থেকে কার্যকর লোক সত্যিই দুর্লভ। ব্যাটিংয়ে খামতি পূরণে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে গ্রেগের অধীনে অনুশীলন করে ফল পেয়েছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেও। ফলে নিজের ব্যাটিংয়ের সমস্যা সমাধানে প্রথম টেস্টের পরই চ্যাপেলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পৃথ্বী। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, চ্যাপেল পৃথ্বীকে বুঝিয়েছেন যে, তাঁর এই সমস্যা মূলত মানসিক। তাই তিনি পৃথ্বীকে সমস্ত বল ফুল লেংথে পড়বে বলে মনে করে খেলতে বলেন। পাশাপাশি বল অন্য লেংথে পড়লে নিজের অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতার ওপর ভরসা করার পরামর্শ দেন।

গ্রেগের পরামর্শের পর বাকি কাজটা করেন জাতীয় দলের হেডস্যার রবি শাস্ত্রী এবং ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর। গ্রেগের কথা মেনে ফ্রন্টফুটে খেলার ওপর জোর দেন পৃথ্বী। এরপরই সমস্যা একপ্রকার কাটিয়ে ওঠেন। তিনি যে পুরোনো মেজাজে ব্যাট করছেন, তা অস্ট্রেলিয়ায় নেট সেশনেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেকের পর শুভমান গিলের দুর্দান্ত ফর্ম আর রোহিত শর্মা দলে ফেরায় আর প্রথম একাদশে ফেরা হয়নি তাঁর। এমনকি ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সফরেও দলে ছিলেন না। তার পরিবর্তে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ব্যাট হাতে নয়া রেকর্ড গড়লেন।

এ প্রসঙ্গে মুম্বই রাজ্য দলে পৃথ্বীর কোচ রমেশ পাওয়ার বলেন, এখন ও শট নেওয়ার জন্য তৈরি হতে তুলনায় কম সময় নেয়। ফলে ইনসুইং, আউটসুইং বা বলের অন্য কোনও নড়াচড়ায় ওর সমস্যা হয় না। ফেব্রুয়ারিতে মরশুম শুরু হওয়ার পর ওর মধ্যে অনেক পরিবর্তন নজরে এসেছে। এখন ও নিশ্চিত হয়ে শট নেয়। আমি ওকে এটা নিয়ে প্রশ্নও করেছিলাম। পৃথ্বী জানিয়েছিল, ও শুধুমাত্র নিজের মানসিকতায় বদল এনেছে। আর এই বদলের অনেকটা কৃতিত্ব যে গুরু গ্রেগের, তা বলাই বাহুল্য।