পেটের টানে বাবাকে হুইলচেয়ারে নিয়ে রাস্তায় প্রীতি

শিলিগুড়ি : দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। বছরখানেক আগে কাজ থেকে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়েছেন বাবা। তারপর থেকে আর স্কুলমুখো হয়নি শিলিগুড়ির আশিঘর ফাঁড়ির ফাঁড়াবাড়ির বাসিন্দা প্রীতি দাস। ফাঁড়াবাড়ি হাইস্কুলে পড়াশোনা করত সে। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতেই হিমসিম খেতে হচ্ছিল। তাই পেটের দায়ে নিজের স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাবাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে শহর ঘুরে বেড়াচ্ছে বছর চোদ্দোর প্রীতি। সেই থেকে প্রতিদিন হুইলচেয়ার ঠেলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে যা জোগাড় হয়, তা দিয়ে বাবা, মেয়ের খাবার জোটে। কিন্তু লকডাউনের জেরে চরম সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তায় মানুষ নেই। তাই ঠিকমতো ভিক্ষাও জুটছে না। সারা শহর ঘুরে কখনও কখনও একবেলার খাবার জোগাড় হচ্ছে। তাতেই কোনওমতে তাঁদের দুজনের চলছে।

শিলিগুড়ির ফাঁড়াবাড়ির বাসিন্দা রবি দাস একটি বেসরকারি কোম্পানিতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। ২০১৬ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। কিন্তু বছরখানেক আগে কাজ থেকে ফেরার পথে হঠাৎই মাথা ঘুরে তিনি পড়ে যান। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠান। সেই থেকে তাঁর হাত, পা অসাড় হয়ে যায়। কোমরের হাড়েও চোট লাগে। ফলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। মাঝে কিছুদিন বাড়িতেই বসে থাকতেন। অনেক কষ্টে একটি হুইলচেয়ার জোগাড় করেন। এদিকে বাবার অসুস্থতার পর থেকে মেয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এর পর থেকে দুমুঠো খাবার জোগাড়ের জন্যে প্রীতি প্রতিদিন ফাঁড়াবাড়ি থেকে বাবার হুইলচেয়ার ঠেলে শিলিগুড়িতে আসে। হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোসকা পড়লেও মুখে ক্লান্তির কোনও ছাপ নেই। খাবার জোগাড় করতে হবে যে, তাই ক্লান্তি রেখে লাভ নেই, সাফ বক্তব্য ছোট প্রীতির। চাইলেও উপায় নেই, তাই মেয়ের কথায় একপ্রকার সম্মতিই জানিয়েছেন রবিবাবু। তবে তাঁর আক্ষেপ, কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থা পাশে দাঁড়ালে মেয়ের কষ্ট দূর হত।

- Advertisement -