বিজেপির প্রার্থী বাছাই করছে বেসরকারি সংস্থা

210

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই করতে পিকের টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এবার পিকের টিমের মতোই বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ে দায়িত্বে থাকছে বেসরকারি এজেন্সি। পিকের টিমের জন্য তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভের সীমা নেই। এমনকি দলের কর্পোরেট কালচারে মানিয়ে নিতে না পেরে দল ছেড়েছেন একঝাঁক নেতা। ওই একই অভিযোগ যাতে বিজেপির ক্ষেত্রেও না ওঠে তাই দলের জেলা নেতাদের এড়িয়ে এজেন্সি কাজ করছে।

দলীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ওই বেসরকারি এজেন্সি আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভাতেই প্রাথমিকভাবে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। একেকটি বিধানসভা থেকে তিনজনের নাম তারা নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন জেলার পাঁচটি বিধানসভার মোট পনেরো জনের ওপর তীক্ষ্ন নজরদারি চালাচ্ছে বেসরকারি এজেন্সি। এই প্রক্রিয়ায় অবশ্য প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলের মধ্যে কোন্দল এবং গোষ্ঠীবাজি অনেকটা কম হবে বলে দলের একাংশ মনে করছে। তবে এক্ষেত্রে বিজেপির জেলাস্তরের কোনও নেতা মুখ খুলতে চাননি। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভাতেই তারা ভালো রেজাল্ট করে। তার জেরে দুবছর আগে থেকে বিধানসভা ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলা নেতৃত্ব। বিধানসভা ভোটের দরজায় এসে সব দলেই চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ। প্রার্থী বাছাই নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের নেতাদের তেমন কোনও ভূমিকা নেই। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে পিকে সহ আরও তিনটি বিশেষজ্ঞ টিম। তবে বিজেপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে এতদিন তেমন কিছু জানা যায়নি। কিন্তু তাদের একটি বেসরকারি এজেন্সির লোকজন সম্প্রতি একেবারে বুথস্তরে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই এবার বিজেপির অন্দরেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, ওই এজেন্সির লোকজন জেলার প্রতিটি বুথেই ঘুরছেন। নির্দিষ্টভাবে দুই থেকে তিনজন সম্পর্কে তাঁরা খোঁজখবর নিচ্ছেন। ব্যক্তির ভাবমূর্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতার সম্পর্কেও খুঁটিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন ওই সমীক্ষকরা। সম্ভাব্য প্রার্থীর সাংগঠনিক ক্ষমতা কেমন, তাঁর দুর্বলতাই বা কোথায়, এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতখানি, এসব নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন সমীক্ষক দলের সদস্যরা। তবে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এজেন্সি যাঁদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে তাঁদের প্রাথমিক তালিকা অবশ্য রাজ্য থেকেই এজেন্সিকে দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকা পাওয়ার পরেই এজেন্সির লোকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কাজ শুরু করে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছেন, জেলার কোনও আসনেই বাইরের প্রার্থী দাঁড় করানো হবে না। তবে যাঁদের স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তাঁদের ভাবমূর্তি যাচাই করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত জেলার বিধানসভাভিত্তিক তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকায় নতুন, এমনকি অরাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক, চিকিৎসক সহ অন্য পেশায় যুক্ত, সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রাখা হয়েছে।

এজেন্সির বিষয় নিয়ে অবশ্য বিজেপির কোনও কর্মকর্তাই মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলাস্তরের এক কার্যকর্তা বলেন, আসলে লোকসভার পর দলের অবস্থা শক্তিশালী হয়েছে। এখন জেলার পাঁচটি বিধানসভাতে জেতা শুধু আমাদের সময়ে অপেক্ষা। তাই দলের প্রার্থী হতে চেয়ে অনেকেই লাইন দিচ্ছেন। এই অবস্থায় রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের এজেন্সির মাধ্যমে খুঁটিনাটি জেনে নেওয়া হবে। সেই কাজই করছেন এজেন্সির লোকজন। জানা গিয়েছে, গত লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার লোকসভায় বিজেপি প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে এগিয়ে আছে। এরপর একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয় করে বিজেপি। এখন তাদের পাখির চোখ বিধানসভা ভোট। জেলার পাঁচটি বিধানসভা দখল করতে প্রার্থী নির্বাচন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে তা বিজেপির সবস্তরের নেতারাই জানেন। তবে প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যে যাতে কোনও অসন্তোষ তৈরি না হয় তাই জেলা নেতৃত্ব প্রার্থীর নির্বাচনে নাক গলাচ্ছেন না বলেই খবর। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের মতো বিজেপিতেও প্রার্থী নির্বাচনে এজেন্সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। তিনজনের মধ্যে ফাইনাল টিকিট কে পাবেন, সে বিষয়ে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। তাই এখন দেখার বিষয়, জেলার পাঁচটি বিধানসভায় পনেরো জনের মধ্যে কোন পাঁচজনের প্রার্থী হওয়ার কপাল খোলে।