এসি বাস বেসরকারি হাতে দিচ্ছে এনবিএসটিসি

2226

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : একদিকে লাগাতার লোকসান, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল খরচ। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে টিকিট সেলিং এজেন্ট হিসেবে বেসরকারি সংস্থা বা এজেন্সিকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসগুলি চালানোর দায়িত্ব দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পেশাদার সংস্থাকেই ফ্র‌্যাঞ্চাইজি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। সেইসঙ্গে বাসের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও থাকবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপরেই। তবে বাসের মালিকানা থাকবে নিগমের হাতেই। মূলত করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংস্থাকে লাভজনক করতে এই পদক্ষেপ বলে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চারটি ডিভিশনে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৫টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস রয়েছে। এর মধ্যে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা, রায়গঞ্জ এবং বালুরঘাট ডিপোতে এই বাসগুলি রয়েছে। বছর চারেক আগে সৌরভ চক্রবর্তী উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালীন যাত্রীদের সুবিধার্থে ডিপোগুলিতে এই বাস নিয়ে আসেন। জলপাইগুড়ি ডিপোতে পর্যটনের জন্য একটি বাস ব্যবহার করা হলেও, শিলিগুড়ি-কোচবিহার, রায়গঞ্জ-বালুরঘাট, শিলিগুড়ি-রায়গঞ্জ, কোচবিহার-শিলিগুড়ি সহ একাধিক রুটে এই বাসগুলি চালানো হচ্ছিল। নিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য বাসের ভাড়ার তুলনায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলির ভাড়া কিছুটা বেশি। তাই যাত্রী পাওয়া কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। আবার বাসগুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচও রয়েছে। সমস্ত কিছু করে আর্থিক লোকসান হচ্ছিল নিগমের বলে খবর। সেই কারণে সমস্ত দিক বিচার করে ১৫টি বাসের মধ্যে ১২টি বাস উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম টিকিট সেলিং এজেন্টের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থা বা এজেন্সিকে তুলে দিতে চলেছে। যারা বাসগুলি নেবে তাদের ওই রুটেই বাস চালাতে হবে বলেও জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সন্দীপ দত্ত বলেন, টিকিট সেলিং এজেন্ট হিসেবে বাসগুলি এজেন্সিকে দেওয়া হলেও বাসের মালিকানা নিগমের থাকবে। এমনকি বাসের চালকও আমাদেরই থাকবেন। এজেন্সি কেবল নির্দিষ্ট অর্থ আমাদের দিয়ে বাসগুলি চালাবে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে একটি টেন্ডার করা হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট সংস্থা, কোম্পানি বা ব্যক্তিবিশেষ টেন্ডারে অংশ নিতে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বাস দেওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বুঝে নেওয়া হবে। পুজোর দিকে তাকিয়ে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার বলেন, বাসগুলি চালিয়ে লাগাতার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। এছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে। তাই ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।