এবার বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে পঞ্চায়েতের অডিট

351

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্য ও জেলা সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছু জেলায় নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়েছে একেবারে তরুণ ও নতুন মুখ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সবদিক থেকেই কঠিন লড়াই হিসেবে বিবেচনা করে জোর দেওয়া হয়েছে ব্লক, অঞ্চল ও বুথভিত্তিক সংগঠনে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত স্তরে পদাধিকারীদেরও বদল করতে চান দলীয় নেতৃত্ব। স্বচ্ছতা রাখতে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আয়ব্যয়ের হিসেব খুঁটিয়ে দেখতে চাইছে দল। জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি তারা তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক লেনদেন নিয়ে অডিট করবে। দুর্নীতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করতে পঞ্চায়েতের অডিটকে হাতিয়ার করতে চায় দল।

কাটমানি ইশ্যুর মতো একাধিক দুর্নীতিতে দলের জনপ্রতিনিধি এবং নেতাদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসায় ফাঁপরে পড়েছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে পিকের পরামর্শে  দিদিকে বলো, বাংলার গর্ব মমতার মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  তৃণমূলের অন্দরের খবর, লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর রাজ্যজুড়ে যে সার্ভের কাজ করা হয়েছে, তাতে বোঝা গিয়েছে, নীচুতলায় দলের ভাবমূর্তি ফেরানো খুব প্রয়োজন। সার্ভেতে উঠে আসা তথ্যে দেখা গিয়েছে, দলের পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ সদস্যদের অনেকেই নানা অপকর্ম এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। সেসব নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভও রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফলে তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝেছেন, শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে উজ্জ্বল ভাবমূর্তির কাঁধে ভর করে আগামী ভোট বৈতরণি পার করা যাবে না। তৃণমূলস্তরে দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন। আর সেজন্যে সব দলীয় কমিটি ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে নীচুতলার প্রশাসনেও মুখ বদল করতে উদ্যোগী হয়েছে শাসকদল।

- Advertisement -

তবে বদল করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের পঞ্চায়েত আইনের সংশোধন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে সংশোধিত পঞ্চায়েত আইন অনুসারে, আড়াই বছর হওয়ার আগে প্রধান সহ বোর্ড পরিবর্তন করা যাবে না। সেই হিসেবে আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেই পূর্ণ হচ্ছে পঞ্চায়েত বোর্ডগুলির আড়াই বছরের মেয়াদ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলাতেই পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এমনকি জেলা পরিষদস্তরের প্রধান, উপপ্রধান, সভাপতি বা সভাধিপতিদের চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করেছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। এই বিষয়ে দলীয় রিপোর্ট এবং পিকের টিমের সার্ভের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বসে যাওয়া দলের পুরোনো কর্মীদের মতামত, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ি জেলার ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়ে এবং ছটি পঞ্চায়েত সমিতির সবগুলিতেই ক্ষমতাসীন তৃণমূল। এখানেও বেশ কিছু পঞ্চায়েতকে কালো তালিকায় ফেলেছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। এই বিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের জেলা কোঅর্ডিনেটর মিতালি রায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া দলে আমরা সকলেই কর্মী। কাজের নিরিখেই দলনেত্রী আমাদের মূল্যায়ন করেন। সেই মূল্যায়নে যেমন মন্ত্রীসভা থেকে মন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন, ঠিক তেমনি পরিবর্তন হতে পারেন পঞ্চায়েত প্রধান, সভাপতি, সভাধিপতি বা পুর চেয়ারপার্সন। আমরা কেউই দলীয় মূল্যায়নের ঊর্দ্ধে নই।