বেসরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় লাগামছাড়া বিল

97

শিলিগুড়ি : করোনার বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই। এক-একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম করোনায় সংক্রামিত হওয়া দূরে থাক, উপসর্গ থাকলেই সেই রোগীকে ভর্তি করার জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে ভয়াবহ সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখিয়ে কোভিডের চিকিৎসা করাতে চাইছেন। কিন্তু হাসপাতালগুলির বক্তব্য, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে করোনার চিকিৎসা করার স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনও নির্দেশিকা নেই। দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও সরকারি গাইডলাইন মেনেই চিকিৎসা করতে হয়। কোনও বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম সেই নির্দেশিকা মানছে না এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিলিগুড়িতে শহর এবং শহরতলি মিলিয়ে অন্তত ২৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে করোনা সংক্রামিত রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। গত বছর স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে করোনা সংক্রামিত রোগীদের ভর্তি নেওয়ার সময় সর্বাধিক ৫০ হাজার টাকা নেওয়া যাবে বলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকেই বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলি কার্যত কোভিডের চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছে লুটপাট শুরু করে। করোনা সংক্রামিত হয়ে কেউ বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেই ন্যূনতম তিন-চার লক্ষ টাকা বিল আদায় করে তারপরই রোগীকে ছুটি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। কারও কারও কোমরবিডিটি থাকলে সেসবের চিকিৎসার নামে বিল আরও বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

- Advertisement -

ফের একই জিনিস শুরু হয়েছে শিলিগুড়িতে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমে করোনা সংক্রামিত রোগীর চিকিৎসা শুরু করার আগেই লক্ষ লক্ষ টাকা অগ্রিম হিসাবে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আইসোলেশন শয্যার ভাড়া হিসাবে প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার টাকা, চিকিৎসক যতবার রোগীকে দেখবেন প্রতিবার তাঁর ১,০০০-১,৫০০ টাকা ফি, প্রতিবার একটি করে পিপিই কিট, স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেক খরচও দেখানো হচ্ছে।

অভিযোগ, শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ইদানীং করোনার উপসর্গ দেখলেই রোগীকে ভর্তি নেওয়ার আগে ৭০-৮০ হাজার টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ। রোগীকে ভর্তি করে সেই সময় থেকেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে সেখানকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এর পরে করোনার লালার নমুনা পাঠানো, তার রিপোর্ট নিয়ে আসা এবং পরবর্তী চিকিৎসা পুরোটাই কয়েক লক্ষ টাকার লম্বাচওড়া বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও শিলিগুড়ি শহরতলির একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনার চেস্ট ইনফেকশন নিয়ে ভর্তি হওয়ার সময় এক রোগীর পরিবারের কাছে ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়গুলি স্বাস্থ্য দপ্তর কোনও নজরদারি করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।