গাঁটের টাকায় দুঃস্থ পড়ুয়াদের জন্য গৃহশিক্ষকের বুক ব্যাংক

136

দিনহাটা : কখনও বিনা বেতনে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদান করে, আবার কখনও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনহাটা শহরের স্টেশন রোড সংলগ্ন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গৃহশিক্ষক সিদ্ধেশ্বর সাহা। তাঁকে এই কাজে সবসময় সহযোগিতা করেছে তাঁর প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়ারা। এবার তাঁদের নতুন উদ্যোগ বুক ব্যাংক। যারা বইয়ে অভাবে উচ্চশিক্ষা চালাতে সমস্যায় পড়ছে, তাদের বুক ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট সময়ে জন্য বই দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সিদ্ধেশ্বরবাবুর নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠানে বুক ব্যাংকের সূচনা করেন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। তিনি ছাড়াও চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী সেবানন্দজি মহারাজ ও গৃহশিক্ষক সিদ্ধেশ্বর সাহা উপস্থিত ছিলেন। সাংসদ বলেন, সিদ্ধেশ্বরবাবু একজন প্রকৃত শিক্ষক যিনি নিজেকে দশের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগের সাক্ষী হতে পেরে গর্ব হচ্ছে। সেবানন্দজি মহারাজও তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সিদ্ধেশ্বরবাবুর বর্তমান ছাত্র সৌম্যদীপ সাহার কথায়, স্যর বরাবরই দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করেন। আগামীতে তাঁর মতো একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হতে চেয়ে সবসময় তাঁকে সহযোগিতা করেছি। প্রাক্তন ছাত্র প্রতীক দে বলেন, স্যর যখনই কোনও উদ্যোগ নিয়েছেন, পাশে থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। আগামীতেও এটা করে যেতে চাই। শিক্ষক সিদ্ধেশ্বর সাহা বলেন, পড়ুয়াদের পাশে থাকতে পারলে খুব আনন্দ হয়। আর সেইজন্যই তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। অনেক দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রছাত্রী উপযুক্ত সহায়ক বইয়ের অভাবে আশানুরূপ ফল করতে পারে না। তারা যাতে আর বঞ্চিত না হয়, সেজন্য এক বছরের জন্য দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের হাতে তাদের প্রয়োজনীয় বই তুলে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময় পড়ে তারা বইটি ফেরত দিয়ে দেবে। যাতে অন্য পড়ুয়ারাও বই পড়ার সুযোগ পায়। বর্তমানে বুক ব্যাংকে পাঠ্যবই রাখা হয়েছে। আগামীতে কর্মসংস্থানমুখী পত্রপত্রিকা ও বই রাখারও চেষ্টা করা হবে।