জটেশ্বর ও বীরপাড়া: প্রায় সাত মাস আগে ফালাকাটা ব্লকের খগেনহাট বাজারের বারবাঁক নদীর নড়বড়ে সেতুটি ভেঙে দিয়ে প্রায় ২ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু তৈরির কাজ শুরু করে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। সেখানে যাতায়াতের জন্য প্রথমে বাঁশের সাঁকো দেওযা হলেও পরে অস্থাযীভাবে ডাইভারশন তৈরি করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে। সেই অস্থায়ী ডাইভারশনও জলের তোড়ে ভেঙে যাওযায় সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, ডাইভারশন বর্তমানে বেহাল হয়ে রয়েছে। বাধ্য হয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেই পথেই যাতায়াত করছেন। স্থানীয়রা জানান, বারবাঁক নদী খগেনহাট বাজারটিকে দুভাগে ভাগ করেছে। বাজারের একদিকে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে চার-পাঁচটি স্কুল, গ্রাম পঞ্চায়ে কার্যালয়, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ বেসরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ ভগ্নপ্রায় বিপজ্জনক ডাইভারশন দিয়ে যাতায়াত করছেন। এদিকে, সেতু ও ডাইভারশন তৈরির বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওযা যায়নি। ফলে সেতুর কাজ নিয়ে ধোযাঁশা দেখা দিয়েছে খগেনহাটে।

খগেনহাট নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক সবুজ দাস বলেন, খগেনহাটের বারবাঁক সেতুটি ভাঙার পর সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, স্কুল পড়ুযা সহ সকলের সমস্যা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আন্দোলনও করেছি। গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসন কিংবা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরেও গিয়েছিলাম। কিন্তু সদুত্তর পাইনি।

সিপিএম নেতা সুনীলচন্দ্র রায় বলেন, সাত মাস আগে অপরিকল্পিতভাবে ধনীরামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও তৃণমূলের আরও কয়েজনের উদ্যোগে খগেনহাটের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম কজওয়েটি ভেঙে ফেলা হয়। তাঁদের সেই ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এখন পঞ্চাশ হাজার মানুষ ও ছাত্রছাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে, সেতুটি ভাঙার পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ঠিকাদারি সংস্থা বা কাউকেই খগেনহাটে দেখা যাচ্ছে না। বিজেপি নেতা এসরাউল আলম বলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটব্যাংক বাড়াতে তৃণমূল লোকদেখানো কাজ করে। তারা টেন্ডার কিংবা ওযার্ক অর্ডার ছাড়াই খগেনহাটের বারবাঁক নদীর পুরোনো সেতুটি ভেঙে দেয়। যার ফলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তবে, আলিপুরদুযার জেলাপরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার বলেন, সেখানে কাজের জন্য ওযার্ক অর্ডার হয়েছিল। তবে, এই মুহূর্তে কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে তা খতিয়ে দেখে জানানো হবে।

ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, বর্ষার মধ্যে সেতুর কাজ শুরু না হলেও ঠিকাদার সংস্থা ডাইভারশনটির কাজ করবে। তবে মানুষের যাতে অসুবিধা না হয় তার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ডাইভারশনটি একবার মেরামত করা হয়েছিল। ধনীরামপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েছের প্রধান নিতাই দাস বলেন, খুব শীঘ্রই আরও একটি নতুন বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হবে। যদিও, খগেনহাটের বারবাঁক সেতুর টেন্ডার প্রক্রিযা কিংবা ওযার্ক অর্ডার সম্পন্ন হয়েছিল কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনোরকম তথ্য দিতে চাননি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের এগ্জিকিউটিভ অফিসার সন্দীপ মেহতা।