শিলিগুড়ি, ১৭ মার্চঃ জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের বার নিয়ে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বিরোধ দানা বাঁধছে। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের জন্য পৃথক বার অ্যাসোসিয়েশন গঠনের লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বার অ্যাসোসিয়েশকে চিঠি দিয়েছে শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন। প্রাথমিকভাবে অ্যাড হক কমিটি গঠনের জন্য দুজন করে প্রতিনিধি পাঠাতে বলা হয়েছে চিঠিতে। এ ব্যাপারে রাজ্যের বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি বারের সম্পাদক বিদিশা দে। তবে সার্কিট বেঞ্চের বার অ্যাসোসিয়েশন গঠন হয়ে গিয়েছে বলে পালটা দাবি করেছেন জলপাইগুড়ি বারের সম্পাদক অভিজিৎ সরকার। তাঁর দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রশাসন এ ব্যাপারে স্বীকৃতিও দিয়েছে।

সার্কিট বেঞ্চকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়ির আইনজীবীদের মধ্যে। সার্কিট বেঞ্চের জন্য পৃথক বার অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিলিগুড়ি বারের তরফে মালদা এবং দুই দিনাজপুর জেলার বাইরে ১১টি বার অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২২ জনের অ্যাড হক কমিটি গঠনের জন্য প্রতিটি বারকে দুজন করে প্রতিনিধির নাম পাঠাতে বলা হয়েছে। বিদিশাদেবীর বক্তব্য, আদালতের যাবতীয় কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে তার জন্য সার্কিট বেঞ্চের বার অ্যাসোসিয়েশন প্রয়োজন। প্রয়োজন বেঞ্চ এবং বারের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক থাকা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের কথা রাজ্যের বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। বার কাউন্সিলের চেযারম্যানের পাশাপাশি চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে অরুণ সরকার ও সুব্রত সরকারকে। শিলিগুড়ির এই দুই আইনজীবী রাজ্য বার কাউন্সিলের সদস্য।

এদিকে, শিলিগুড়ি বারের এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন। জলপাইগুড়ি বারের সম্পাদক অভিজিৎবাবু বলেন, বাইরের কারা কী করছে সে ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই। জানতেও চাই না। ইতিমধ্যে সার্কিট বেঞ্চের বার গঠন হয়ে গিয়েছে এবং এ ব্যাপারে স্বীকৃতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রশাসন। সার্কিট বেঞ্চের বারের সভাপতি কমলকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানান অভিজিৎবাবু। এই দাবি অবশ্য মানতে নারাজ শিলিগুড়ি বারের কর্তারা। বিদিশাদেবীর প্রশ্ন, কীসের ভিত্তিতে সরাসরি সার্কিট বেঞ্চের বার গঠন হল? সভাপতি এবং সম্পাদক মনোনয়ন হল কী করে? শুধু জলপাইগুড়ি কি সার্কিট বেঞ্চের অন্তর্ভুক্ত? শিলিগুড়ি এবং বাকি জায়গাগুলির প্রতিনিধিদের বাইরে রেখে কি সার্কিট বেঞ্চের বার গঠন সম্ভব? প্রসঙ্গত, ১১ মার্চ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে।