কোভিড টিকার পোর্টালে গোলযোগ, শহর থেকে গ্রামে গিয়ে ফিরে এলেন বহু

83
ভ্যাকসিন নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন উপভোক্তারা। - সংবাদচিত্র

ফাঁসিদেওয়া, ২৩ মেঃ কো-উইন পোর্টালে গোলযোগের কারণে করোনার টিকা নিতে হয়রানির শিকার হলেন বহু মানুষ। টিকাকরণ নিয়ে এমনটাই অভিযোগ উঠল ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিশেষ টিকাকরণ কেন্দ্রগুলিতে। রবিবার ফাঁসিদেওয়া ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা ৫টি ক্যাম্পে সুপার স্প্রেডার ক্যাটাগরিভুক্ত উপভোক্তাদের করোনা টিকাকরন শুরু করা হয়। এরইমাঝে, কোভিড ভ্যাকসিনেশনের অনলাইন পোর্টালে বিশেষ টিকাকরন কেন্দ্রগুলো সকলের জন্য ভ্যাকসিন বুক করার জন্য খুলে দেওয়া হয়। আর তাতেই সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে শিলিগুড়ি মহকুমার এই সমস্ত টিকাকরন কেন্দ্রে ভিড় করতে থাকেন। এরপরই শুরু হয় ভোগান্তি। যদিও, পরবর্তীতে বহু মানুষ টিকা না পেয়ে ফিরে গিয়েছেন বলে খবর মিলেছে।

ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে সবজি বিক্রেতা, মাছ-মাংস বিক্রেতা, হকারসহ আরও কিছু শ্রেণির মানুষকে ভাইরাসের সুপার স্প্রেডার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই শ্রেণির মানুষদের টিকাকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এরপরই সেই নির্দেশ মতো সম্প্রতি ফাঁসিদেওয়া সমষ্টি উন্নয়ন কার্যালয়ের তরফে এই সমস্ত মানুষের নামের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়। সেই তালিকাভুক্ত রয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। শনিবার ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ২ হাজার কোভিশিল্ডের ডোজ পাঠানো হয়েছে। এটি শুধুমাত্র সুপার স্প্রেডার তালিকাভুক্তদের জন্য দেওয়া হয়েছে বলে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর। এদিন সেই টিকাকরন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।

- Advertisement -

এদিকে, কো-উইন পোর্টালে করোনার টিকাকরন শুরু হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষ টিকাকরন কেন্দ্রে হাজির হয়ে যান। এমনকি শহর শিলিগুড়ি থেকেও এদিন কয়েকশো মানুষ করোনার টিকা নিতে ফাঁসিদেওয়া এসে পৌঁছান। আর ভ্যাকসিন না পেয়ে, টিকাকরন কেন্দ্রে থাকা স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায়। যদিও, পরবর্তীতে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক এবং ব্লক প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্যার সমাধান করেন। খবর পেয়ে দার্জিলিংয়ের ডেপুটি সিএমওএইচ (৩) সংযুক্তা লিও, ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার, ফাঁসিদেওয়ার বিএমওএইচ অরুণাভ দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উপভোক্তাদের বোঝানোর পর, তাঁরা সকলেই ফিরে যান। যদিও, রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী কার্যত লকডাউনের মাঝে, কয়েকশো মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ির বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ দত্ত ফাঁসিদেওয়া হাই স্কুলে টিকা নিতে এসে একই মন্তব্য করেছেন।

এদিন লিউসিপাকড়িতে অবস্থিত রাঙ্গাপানী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাঁসিদেওয়া হাই স্কুল, আমবাড়ি হাই স্কুল, বিধাননগর জুনিয়র বেসিক স্কুলে ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া চলেছে। এরমধ্যে বিধাননগর বাদে বাকি সব কেন্দ্রেই তালিকাভুক্ত ছাড়াও শিলিগুড়ি থেকে বহু মানুষ হাজির হন। সকলেই কো-উইন পোর্টাল দেখিয়ে টিকার দাবি করতে থাকেন। যারা সংশ্লিষ্ট পোর্টালে টিকা নেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন, তাঁরা ফাঁসিদেওয়ার এই কয়েকটি বিশেষ কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারছিলেন বলেই সমস্যা দেখা দেয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও, বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ মুদি দোকানদার, মাছ-মাংস বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতাদের সহ এই বিশেষ শ্রেণির মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহমজুমদার বলেন, অনলাইন ভ্যাকসিনেশনের পোর্টালে কিছু সমস্যা থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সব শ্রেণির মানুষের জন্য ভ্যাকসিন বুকিং খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে, এই সমস্ত বিশেষ ক্যাম্পে সকল শ্রেণির সাধারণ মানুষদের টিকা দেওয়াই হচ্ছে না। সে কারণেই সমস্যা তৈরি হয়। এই ভ্যাকসিন রাজ্যের তরফে শুধুমাত্র সুপার স্প্রেডারদের দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। অনেকে তা বুঝতে চাচ্ছিলেন না। এই নিয়ে সমস্যা বাড়ে। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হলে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উপযুক্তদের সঠিকভাবে ভ্যাকসিনেশন করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ফাঁসিদেওয়ার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাস। অন্যদিকে, অনলাইন পোর্টালে গোলযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দার্জিলিংয়ের সিএমওএইচ প্রলয় আচার্য বলেন, পোর্টালটি ভুলভাবে ক্রিয়েট হয়ে গিয়েছিল। সেই কারণে এমন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যাতে, এমন না ঘটে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন।