শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি : এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল মেলে না। তাই বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপ ও কুয়োর অপরিস্রুত পানীয় জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। এর জেরে ধূপগুড়ির ঝাড়আলতা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতটি মৌজার ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছে। ঝাড়আলতা-১ গ্রাম পঞ্চায়ে প্রধান মমতা রায় বলেন, এলাকার দুটি মৌজায় পরিস্রুত পানীয় জল পরিসেবার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই সেগুলির বাস্তবায়ন হবে বলে জানতে পেরেছি। অন্যান্য মৌজাতেও সমস্যা মেটাতে পানীয় জলপ্রকল্প রূপায়ণের প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

ঝাড়আলতা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫/৬১, ১৫/৬৬, ১৫/৬৭ ১৫/৬৯, ১৫/৭০ সহ বেশ কয়েকটি মৌজায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই)-এর পানীয় জলের স্ট্যান্ডপোস্ট ও পাইপলাইন থাকলেও এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই এই পরিসেবা থেকে বঞ্চিত। বাধ্য হয়ে তাঁরা অগভীর নলকূপ ও কুয়োর অপরিস্রুত পানীয় জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫/৬৭ নম্বর মৌজার বাসিন্দা নমি দাস বলেন, পরিস্রুত পানীয় জল পরিসেবা না মেলায় আমাদের বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপ ও কুয়োর জল খেতে হয়। এর জেরে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সবকিছু জানা থাকা সত্ত্বেও সমস্যা মেটাতে প্রশাসন উদ্যোগী নয় বলে বাসিন্দাদের দাবি। এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, ভোট এলেই জনপ্রতিনিধিরা আমাদের নানা সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হন। নানা প্রতিশ্রুতি দেন। ভোট পেরিয়ে গেলে তাঁদের অবশ্য কিছুই মনে পড়ে না। তড়িঘড়ি সমস্যা না মেটানো হলে বাসিন্দারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয় পঞ্চায়ে সদস্য বাপ্পাদিত্য রায় অবশ্য বলেন, সংলগ্ন এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল পরিসেবা আছে। কিন্তু এই এলাকায় এই পরিসেবা না থাকায় বাসিন্দারা প্রায়ই আমাদের অভিয়োগ জানান। সমস্যা মেটাতে আমরা বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়ে কর্তপক্ষকে জানিয়েছি। শীঘ্রই সমস্যা মিটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পিএইচই অবশ্য জেলার সমস্ত এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল পরিসেবা পেঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দপ্তর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় এই পরিসেবা পেঁছে দেওযা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি ধূপগুড়ি ব্লকে কয়েটি পানীয় জলপ্রকল্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ব দুরামারি সহ কয়েটি জায়গায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও হাতে নেওযা হয়েছে। পিএইচইর জলপাইগুড়ির সহকারী বাস্তুকার রাজু ভদ্র বলেন, নতুন করে পানীয় জলপ্রকল্প তৈরি করতে গেলে ডিস্ট্রিক্ট ওয়াটার ও স্যানিটেশন মিশনের কাছে প্রস্তাব জমা করতে হবে। পরবর্তীতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবের বাস্তবায়ন হবে।