নলকূপের জলে আয়রন, পেটের অসুখে ভুগছে কুমলাইবাসী

90

বড়দিঘি : নলকূপের আয়রনযুক্ত জল খেয়ে পেটের অসুখে ভুগছেন মাল ব্লকের কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। গুয়াবাড়ি, নেওড়া বাগান, বাঁশবাড়ি, পাতিধুরা, পূর্ব ডামডিম, নেপুচাপুর এলাকায় পঞ্চায়ে থেকে যতগুলো নলকূপ বসানো হয়েছে তারমধ্যে বেশিরভাগ নলকূপের জলেই আয়রন ধরা পড়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পরিস্রুত জল না পেয়ে বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়ে প্রধান ফুলমণি ওরাওঁ বলেন, আমরা সজলধারা প্রকল্প ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরে ব্যাপারটি লিখিত আকারে জানিয়েছি। সেখানকার আধিকারিকরা এসে দেখেও গিয়েছেন। ভোট মিটলে তাঁদের সঙ্গে ফের যোগাযোগ করা হবে।

কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জনসংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। এলাকাবাসীরা জানান, গরমের সময় পানীয় জলের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে বারবার আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। কয়েক বছর আগে পঞ্চায়েত থেকে টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল, সেটি থেকে আয়রনযুক্ত জল বের হচ্ছে। এলাকার অজস্র প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলের খুদে পড়ুয়ারা সেই দূষিত জল খায়। মিড-ডে মিলের রান্নাও সেই জল দিয়ে হয়।

- Advertisement -

পূর্ব ডামডিমের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, কোনও উপায় না থাকায় শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক জল আমাদের খেতে হচ্ছে। শহরাঞ্চলের মতো গ্রামে যদি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের রিজার্ভার বসানো যায় তাহলে সমস্যা স্থায়ীভাবে মিটবে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। চেলধুরার বাসিন্দা বিস্কি রায় বলেন, দিন-দিন জলে আয়রনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁরা জল কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের মতো খেটেখাওয়া মানুষের সে উপায় নেই। দূষিত জল খেয়ে পেটের অসুখ, চর্মরোগে ভুগছি। রাজনৈতিক নেতারা প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ।  নেপুচাপুরের বাসিন্দা বাসদেব ওরাওঁ বলেন, এলাকার জনসংখ্যার বিচারে নলকূপের সংখ্যা  অনেকটাই কম। কিছু নলকূপ আবার অকেজো হয়ে গিয়েছে। আমরা অনেকেই কুয়োর জল ফুটিয়ে খাই। কিন্তু এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। অনেক গ্রামগঞ্জে পিএইচইর লাইন পৌঁছে গিয়েছে। নেতারা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও একটা কাজও হয়নি। ভোট প্রচারে আসা নেতাদের কাছে পরিস্রুত পানীয় জলের দাবি জানাব।