শিলিগুড়ি : ডাম্পিং গ্রাউন্ডে প্রায় প্রতিদিন রাতেই আগুন জ্বলায় সেখানকার দূষিত ধোঁয়ায় ভরে উঠছে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, মাঝেমধ্যেই সেই কালো ধোঁয়ায় শহরের হাকিমপাড়া, কলেজপাড়া, রবীন্দ্রনগরের মতো এলাকায় সাধারণ মানুষের রাতের দিকে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের আবর্জনায় প্রতিদিন আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে কে বা কারা?

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। পরিস্থিতি এমনটাই ভয়ানক হয়ে উঠেছে য়ে, আবর্জনা উপচে রাস্তার উপরও চলে আসে মাঝেমধ্যে। অনেক সময় আবার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ভিতর ঢোকার মতো পরিস্থিতি পর্যন্ত থাকে না। সারা দিনরাত ওই এলাকা দুর্গন্ধে ভরে থাকার কারণে ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশের রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। অথচ ডাম্পিং গ্রাউন্ডের দুশো মিটারের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করে কয়েক হাজার শিশু- কিশোর। প্রতিদিন ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশের রাস্তা দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা য়খন স্কুলে যাতায়াত করে তখন তাঁদের কী অবস্থা হয় তা চোখে না দেখলে বোঝার উপায় থাকে না। ওই এলাকায় বসবাস প্রচুর পরিবারের। তারা ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পরিস্থিতি নিয়ে বহুবার প্রশাসনিকস্তরে অভিযোগ করার পাশাপাশি আন্দোলনে নামলেও কাজের কাজ এখনও পর্যন্ত কিছুই হয়নি। গৌতম দেব উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী থাকাকালীন ডাম্পিং গ্রাউন্ডের আবর্জনা যাতে রাস্তার উপর চলে না আসে সেই জন্য প্রাচীর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছরখানেক বাদেই সেই প্রাচীর ভেঙে গিয়ে আবার পরিস্থিতি ভয়ানক আকার নেয়। তবে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা হয় বর্ষাকালে। জলে, আবর্জনায় গোটা এলাকা রীতিমতো নরককুণ্ডে পরিণত হয়। সব দেখেশুনেও এখনও পর্যন্ত ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি শিলিগুড়ি পুরনিগম। অথচ ডাম্পিং গ্রাউন্ডের দূষণরোধে বেশ কয়েকবার বিদেশ ভ্রমণও করেছিলেন পুরনিগমের জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মনোজিত্ সরকারের অভিযোগ, এভাবে কোনো মানুষ বসবাস করতে পারে নাকি? সকাল থেকে দুর্গন্ধে টেকা যায় না। ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন ওই নোংরা পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করে। সন্ধ্যারানি দাসের অভিযোগ, ভাত খেতে বসলে অনেকদিন খেতে পারি না। আগুন জ্বললে ঘরে ছাই উড়ে আসে। কিন্তু এইসব সমস্যার কোনো সমাধানই হচ্ছে না বছরের পর বছর ধরে।

ইদানীং ডাম্পিং গ্রাউন্ডে রাতের দিকে জঞ্জালে আগুন ধরে যাওয়ায় গোটা এলাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে। শুধু ডাম্পিং গ্রাউন্ড এলাকাই নয়, শহরের আশপাশের বেশ কিছু এলাকাতেও দূষণ ছড়াচ্ছে। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে দূষণ হচ্ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি সেখানে। যাঁদের হাতে শহর পরিকল্পনার দায়িত্ব, তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন না। গোটা শহরে বেআইনি নির্মাণে ভরে গিয়েছে। নদীর চর দখল হয়ে গিয়েছে বহু বছর আগে। য়েখানে সেখানে বাজার বসে যাচ্ছে। এসব দেখার দাযিত্ব যাঁদের উপর তাঁরা তো হাত গুটিয়ে বসে আছেন। পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতোর বক্তব্য, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশের বস্তি থেকে কেউ বা কারা সেখানে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে খবর পেয়ে সেখানে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।