দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জ শহরের হাসপাতাল মোড় থেকে শিলিগুড়ি মোড় পর্যন্ত কোনো পার্কিংজোন গড়ে না ওঠায় সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলির পাশাপাশি পথচলতি মানুষ। ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলির সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টোটো, অটো, মোটরবাইক দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজট তীব্রতর হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে রাস্তায় যানবাহনের লম্বা লাইন হচ্ছে। ফলে পথচারীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে যেমন আটকে পড়ছেন, তেমনি অসুস্থ রোগীদের নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন রোগীর পরিজনরা।

রায়গঞ্জ শহরের দুধারে শপিং মল রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ তাদের মোটরবাইক এবং টোটো ও অটো চালকেরা যাত্রী ধরার জন্য শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির সামনে ঘন্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। ইতিমধ্যে রায়গঞ্জ পুরসভা এই সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবসাযী সংগঠন, টোটো ও অটোচালক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে। শুক্রবার পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের শেষদিনে রায়গঞ্জের পুরপ্রধান সন্দীপ বিশ্বাস জেলা পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে শহরের যানজট এবং পার্কিংজোন নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামীদিনে রায়গঞ্জ শহরে পার্কিংজোন তৈরির পরিকল্পনা পুরসভার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর কুণ্ডু বলেন, রায়গঞ্জ শহরে পার্কিংজোন খুবই দরকার। তবে বড়ো বড়ো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে। রায়গঞ্জ পুরসভা যদি পার্কিংজোন তৈরির পরিকল্পনা নেয়, তাহলে আমরা অবশ্যই পাশে থাকব। কারণ পার্কিংজোন হলে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলির পাশাপাশি পথচলতি মানুষেরও সুবিধা হবে। শহরে যানজট অনেকটাই কমবে। রায়গঞ্জ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ি বলেন, শহরে পাকিংজোন দরকার। কারণ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘক্ষণ বাইক, টোটো ও অটো দাঁড়িয়ে থাকায় ব্যবসার যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পথচারীরা সমস্যায় পড়ছেন। তাই সকলের স্বার্থে পার্কিংজোন দরকার।

রায়গঞ্জ নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরি বলেন, রায়গঞ্জ শহরে পাকিংজোনের পাশাপাশি বিকল্প রাস্তার দরকার। এই দুটোর ব্যবস্থা হলেই যানজট অনেকটাই কাটবে। যেখানে-সেখানে অটো, বাইক ও টোটো দাঁড়িয়ে থাকায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পথচলতি মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। পুরপ্রধান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, শহরের অধিকাংশ শপিং মলের সামনে দিনভর যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট হচ্ছে। এর ফলে সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা। গত শুক্রবার রায়গঞ্জ শহরের যানজট ও পার্কিংয়ে সমস্যা নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা শহরের যানজট কাটাতে এবং পথচারীদের কথা ভেবে পার্কিংজোন তৈরি করব। এজন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।

রায়গঞ্জ শহরে জেলার বিভিন্ন ব্লকের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিহার রাজ্যের বাসিন্দারা বিভিন্ন কাজে ভিড় করেন। চিকিৎসার জন্য অনেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা সহ নানা জেলা থেকে আসেন। শিলিগুড়ি মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত পার্কিংজোন না থাকায় রাস্তার পাশেই নিজস্ব যানবাহন দাঁড় করিয়ে বিভিন্ন কাজকর্মে যান অনেকেই। রাস্তাঘাট সঙ্কুচিত হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই যানজট তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ফুটপাথ দিয়ে চলাচল করতে পারেন না। যাত্রীবাহী যানবাহনের ভিড় সামলাতে নাজেহাল হতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে।

এদিকে এই সমস্যা দূর করতে বিশেষ নজর দিয়েছে পুরসভা। পার্কিংজোন থাকলে কোনো শপিং মলকে ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছে না পুরসভা। সন্দীপ বিশ্বাস আরও জানিয়েছেন, পার্কিংজোন নিয়ে শীঘ্রই পূর্ত দপ্তর, ট্রাফিক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বসা হবে। যানজটের সমস্যা রুখতে সকলকেই একসঙ্গে নামতে হবে।