বীরপাড়া হাইস্কুলের গাছ বিক্রি নিয়ে বিতর্ক 

456

বীরপাড়া, ১০ জুনঃ আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া হাইস্কুল চত্বরের কিছু গাছ সম্প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দিয়েছে। বুধবার থেকে গাছগুলি কাটার কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বীরপাড়ার বাসিন্দা তথা মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা গাছ কাটার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গাছগুলি চুরি হচ্ছিল। এছাড়া, সরু ও দুর্বল গাছগুলিই কেটে বিক্রি করা হয়েছে। পরিচালন সমিতি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই গাছ বিক্রি করেছে। বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি পঙ্কজ দাসের অভিযোগ, বিধায়ক গাছ কাটা নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি করছেন ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাছগুলি পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসের পেছনে ছিল। চুরি ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি গাছ উপড়ে এবং ভেঙে পড়ছিল। তাই সেগুন ও অন্যান্য মিলিয়ে ৩০টি গাছ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জয়ব্রত ভট্টাচার্য্য জানান, সীমানা প্রাচীর না থাকায় গাছগুলি চুরি হয়ে যাচ্ছিল। তাই পরিচালন সমিতি গাছগুলি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়। যে ক্রেতা সর্বাধিক মূল্য দিয়েছেন, তাঁর কাছেই গাছ বিক্রি করা হয়েছে। ওই টাকায় বিদ্যালয়ের টিনের চালা রং করা হবে। বনদপ্তরের কাছে অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। গাছগুলি কারা চুরি করছিল, তা নিয়ে বিধায়ককে তদন্ত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে। বিধায়ক মনোজ টিগ্গা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা কি এতটাই খারাপ যে, গাছ বিক্রি করে টিনের চালা রং করতে হবে! এক একটি গাছের মূল্য টাকা দিয়ে নির্ধারণ করা যায়না। বন থেকেও তো গাছ চুরি হয়। তাহলে কি বন রক্ষা করার পরিবর্তে বনের সব গাছ বিক্রি করে দেওয়া হবে ?

- Advertisement -

বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি পঙ্কজ দাস জানান, গাছ বিক্রির টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। গাছ কাটার অনুমতিও বনদপ্তরের কাছে নেওয়া হয়েছে। বিধায়ক আজ পর্যন্ত বীরপাড়া হাইস্কুলের উন্নয়নে এক টাকাও দেননি। এদিকে, পরিচালন সমিতি উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করলে, তিনি সমস্যার সৃষ্টি  করছেন। বনদপ্তরের দলগাঁও রেঞ্জ সূত্রের খবর, গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল। তবে, ইতিমধ্যেই গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। দলগাঁওয়ের রেঞ্জার দোরজি শেরপা জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।