ফুলবাড়ির খোঁয়াড় নিয়ে সমস্যা বাড়ছে

300

রণজিত্ বিশ্বাস,  রাজগঞ্জ : ফুলবাড়ির সরকারি খোঁয়াড়ে অযত্নে অবহেলায় গোরু রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। মাঝেমধ্যে গোরুগুলি মারা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগেই দুটি গোরু মারা গিয়েছে। এই ঘটনায় খোঁয়াড় মালিক ও প্রশাসন একে অপরের উপর দায় চাপিয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অনুমোদন ছাড়াই খোঁয়াড়টি কীভাবে চলছে জানা নেই।

নিউ জলপাইগুড়ি থানা এলাকার ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের আমাইদিঘিতে ওই খোঁয়াড়ের মালিক স্থানীয় বাসিন্দা উজির আলি। সীমান্ত এলাকায় পাচারের সময় বা অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়ার পথে উদ্ধার করা গোরু, মহিষ সহ গবাদি প্রাণী রাখা হয় ওই খোঁয়াড়ে। মূলত পুলিশ ও বিএসএফের পক্ষ থেকে উদ্ধার করা গোরু রাখা হয় সেখানে। অভিযোগ, খোলা আকাশের নীচে থাকছে এই গবাদি প্রাণীগুলি। ঠিকমতো খাবার জুটছে না। অযত্নে থাকার ফলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে প্রাণীগুলি। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন পশুপ্রেমীরা।

- Advertisement -

খোঁয়াড় মালিকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খোঁয়াড়ে কিছু গোরু রাখার ঘর এবং প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে অনেক গোরু চলে এলে তাদের রাখতে ও খাবারের জোগাড়ে কিছুটা সমস্যা হয়। উপায় না পেয়ে খোলা আকাশের নীচে রাখতে হয়। তিনি বলেন, গোরুগুলি ৩০ দিনের মধ্যে প্রশাসনের নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই সময়ে মধ্যে না নিয়ে য়াওয়ায় সমস্যা হয়  তবে যে গোরু মারা গিয়েছে তা রাখার সমস্যা বা খাবারের অভাবে হয়নি। একটি ট্রাকে একসঙ্গে ২২-২৪টি গোরু পাচারের পথে কিছু গোরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। গোরুগুলি উদ্ধার হওয়ার পর সরকারি নিয়মে নিলাম হয়। সেটা হতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। পুলিশ বা বিএসএফ সেই গোরু উদ্ধারের পর অনেক দিন খোঁয়াড়ে রাখার কারণেই মারা গিয়েছে বলে তাঁর দাবি।

এদিকে, অনুমোদন ছাড়াই খোঁয়াড় চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওই খোঁয়াড় মালিকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, যে ডাক পায় সে এক বছরের জন্য খোঁয়াড় চালাতে পারে। ২০১৭ সালে ডাক হওয়ার পর কোনো ডাকের ব্যবস্থা করেনি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। তাই স্থানীয় পঞ্চায়ে সদস্যের অনুমতি নিয়ে খোঁয়াড় চালানো হচ্ছে।

ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েছের প্রধান দিলীপ রায় বলেন, ওই খোঁয়াড়ের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কোনোরকম অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিএসএফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গোরুগুলি সঠিকভাবে রাখা এবং প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া খোঁয়াড় মালিকের দায়িত্ব। তার জন্য নিয়ম অনুযায়ী টাকা পান তিনি। নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, খোঁয়াড় সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে ।