শিলিগুড়ি : তিনমাস আগেও যা বলা হয়েছিল, মঙ্গলবার ফের একই বক্তব্য শোনা গেল রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের মুখে। সিটি স্ক্যান মেশিন আসবে, ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু হবে, আই ব্যাংক চালু করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হবে, এমন আরও অনেক কিছু। কিন্তু হয়েছেটা কী? পুজোর আগেই তো আই ব্যাংক চালু হওয়ার কথা ছিল, সিটি স্ক্যান মেশিনও সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই চলে আসবে এবং ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু হয়ে যাবে বলা হয়েছিল, কিন্তু হয়নি। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা পরিসেবা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা শুরু হয়েছে বলে এদিন অভিযোগ তুলেছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক থেকে বেরিয়ে চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলেন, এই মেডিকেলের জন্য রাজ্য সরকার চার-পাঁচবছর ধরে একটা সিটি স্ক্যান মেশিন কিনছে। আজও তা এসে পৌঁছোয়নি। এখন বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা (পিএমএসএসওয়াই) প্রকল্পে যে সুপারস্পেশালিটি ব্লক তৈরি হচ্ছে সেখানে বসানোর জন্য একটা সিটি স্ক্যান মেশিন আসবে। সেই মেশিন ট্রমা কেয়ার সেন্টারে বসানো হবে। মেডিকেলের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, এখনও সিটি স্ক্যান মেশিন না আসাটা দুঃখজনক। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু সমস্যার জেরেই এটা আটকে রয়েছে। আমরা অনেক সিদ্ধান্তই এই বৈঠকগুলিতে নিয়ে থাকি। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করতে স্বাস্থ্য ভবনেরও অনুমতি নিতে হয়। ফলে কিছুটা বিলম্ব হয়।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে দীর্ঘদিন আগে একটি আই ব্যাংক ছিল। আই ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো এখানে তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত ১৯৯৫ সাল নাগাদ আচমকা আই ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়। অনেকেই এখনও মেডিকেলে মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করলেও আই ব্যাংক না থাকায় তাঁদের কর্নিয়া নিয়ে অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে না। বছরদুয়েক ধরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়ে রাজ্যজুড়ে হইচই শুরু হওয়ায় এই মেডিকেলেও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে। গত অগাস্ট মাসেই রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক শেষে জানানো হয়েছিল, এখানেও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আপাতত আই ব্যাংকটি পুনরায় চালু করা হবে। পুজোর আগেই এই মেডিকেলে কর্ণিয়া প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবে কাজ একচুলও এগোয়নি। ট্রমা কেয়ার ইউনিট চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে উদ্বোধন করার কথা ছিল। শেষমুহূর্তে তা বাতিল হয়ে য়ায়। অগাস্টের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকেই চেয়ারম্যান বলেছিলেন, দ্রুত ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু করছি। সিটি স্ক্যান মেশিন শীঘ্রই চলে আসবে। যতদিন তা না আসছে আমরা শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে রোগীদের সিটি স্ক্যান করিয়ে নিয়ে আসব। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে এসেও বলা হচ্ছে, সিটি স্ক্যান মেশিন আসেনি। তবে ৭-৮ তারিখ নাগাদ ট্রমা কেয়ার ইউনিটের ট্রায়াল দেওয়া হতে পারে। আর সিটি স্ক্যান মেশিন? রাজ্য সরকার এখনও এই মেডিকেলের জন্য সিটি স্ক্যান মেশিন কিনতে পারেনি।

রুদ্রনাথবাবু জানান, পিএমএসএসওয়াই ব্লকের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি সিটি স্ক্যান মেশিন পাঠাচ্ছে। সেটি ট্রমা কেয়ার ইউনিটের জন্য বসানো হবে। তবে এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কিন্ত একটি প্রকল্পের সিটি স্ক্যান মেশিন অন্য প্রকল্পে কীভাবে বসানো সম্ভব? তিনি বলেন, অনুমতি নিয়ে অবশ্যই বসানো যাবে। পরে রাজ্য সরকার যে সিটি স্ক্যান মেশিন দেবে সেটা আমরা পিএমএসএসওয়াইতে বসিয়ে দেব।

মেডিকেলে যত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল তার সিংহভাগই খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। পূর্ত দপ্তর নির্মাণকাজ করতে গিয়ে তার ছিঁড়ে দেওয়ায় এই বিপত্তি। এখন এই কাজের সংস্কার কারা করবে তা নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় মেডিকেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে একাধিক বিভাগের প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বৈঠক তো মাসে মাসেই হচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। শুধু হচ্ছে, হবে এসবই চলছে।