ডাক্তারের ঘাটতি, পরিষেবায় ধাক্কা কোচবিহারে

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : চিকিৎসকের সংকটে ভুগছে গোটা কোচবিহার। কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি প্রতিটি মহকুমা হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম চিকিৎসক থাকায় পরিষেবা দিতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে। সমস্যা কবে মিটবে তা বলতে পারছেন না আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসকের সংকট থাকা সত্ত্বেও এখনও কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।

জেলার সব হাসপাতালে ছবিটা একইরকম। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ৬২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ২৯ জন রয়েছেন। ২২ জন জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও সেখানে একজনও নেই। দুজন করে অর্থোপেডিক ও সাইকায়াট্রিক বিভাগে থাকার কথা। কিন্তু একজনও নেই। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার জন্য পাঁচজন চিকিৎসক হাসপাতাল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ফলে সেখানে পরিষেবা ঠিক রাখতে রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে অন্য চিকিৎসকদের। মেখলিগঞ্জ হাসপাতালে যত সংখ্যক চিকিৎসক থাকার কথা, তার অর্ধেক চিকিৎসকও নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে ২৯ জন চিকিৎসকের জায়গায় মাত্র ১৩ জন রয়েছেন। যেখানে জেনারেল ডিউটি অফিসার থাকার কথা ১২ জন, সেখানে রয়েছেন মাত্র দুজন। এছাড়াও রেডিওলজি, প্যাথলজি, মেডিসিন, সার্জারি বিভাগে কোনও চিকিৎসকই নেই। মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে প্যাথলজি, অর্থোপেডিক, সার্জারি বিভাগে কোনও চিকিৎসক নেই। শিশু বিভাগ বাদ দিয়ে প্রতিটি বিভাগেই চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ফলে পরিষেবা দিতে কার্যত নাজেহাল হতে হচ্ছে। তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসক রয়েছেন। সেখানেও আরও চিকিৎসকের প্রয়োজন।

- Advertisement -

জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত হওয়ার পর কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তুলনামূলকভাবে চিকিৎসকের ঘাটতি কমেছে। সেখানে প্রায় ২০০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তবে সেখানকার মাতৃমা বিভাগে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। যেখানে কমপক্ষে ৩০ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে মাত্র সাত-আটজনকে দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। প্রতিদিন মাতৃমা বিভাগে কমবেশি ৩০টি শিশুর জন্ম হয়। শতাধিক শিশু ও মহিলা সেখানে চিকিৎসাধীন থাকেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সংকট দেখা দেওয়ায় পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে গলদঘর্ম দশা কর্তপক্ষের। এমএসভিপি ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, চিকিৎসকের অভাবের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি সমস্যা মিটে যাবে। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের সুপার রঞ্জিত মণ্ডল বলেন, চিকিৎসকের সংখ্যা কম রয়েছে। সেভাবেই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ হাসপাতালের সুপার কাশীনাথ পাঁজা জানিয়েছেন, চিকিৎসকের সংকট থাকলেও রোগীদের পরিষেবায় খামতি রাখছেন না তাঁরা।