ধ্বংসের মুখে বাঁচার রসদ খুঁজছেন বাগ্রাকোট বাগানের শ্রমিকরা

208

অনুপ সাহা, বাগ্রাকোট : এ যেন ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে বাঁচার রসদ খুঁজে চলা। ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছে ডানকানস গোষ্ঠী পরিচালিত ডুয়ার্সের বাগ্রাকোট চা বাগান। একসময়ে এ ক্যাটিগোরির তকমাপ্রাপ্ত এবং অধুনা ধুঁকতে থাকা বাগ্রাকোট চা বাগানের পরিচালনভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে আগ্রহী কয়েকজন ক্রেতার আগমনে সম্প্রতি বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা হলেও নতুন করে বেঁচে থাকার তাগিদ লক্ষ করা গিয়েছে। বাগানের স্থায়ী শ্রমিক শুকনু ওরাওঁ, বিরসু লোহার থেকে শুরু করে ইলেকট্রিশিয়ান দিলীপ শর্মা, শ্রমিক নেতা সরোজ ছেত্রী, লরেন্তুস লাকড়া, নির্মল ছেত্রী, আমির ছেত্রী সহ সকলেরই এক বক্তব্য, এভাবে বেঁচে থাকা যায় না। তার চেয়ে বদল হোক বাগানের মালিকানা। দীর্ঘদিন বাগান পরিচালকদের খামখেয়ালিপনায় শ্রমিকদের পিএফ, গ্র‌্যাচুইটি সহ বিভিন্ন বকেয়া জমতে জমতে পাহাড়প্রমাণ হলেও কর্তৃপক্ষের হুঁশ ছিল না। অপারেটিং ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি মেনে কাঁচা চা পাতা বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি মেটানোর চেষ্টা ধ্বংসের মুখে বাঁচার রসদ খুঁজছেন বাগ্রাকোট বাগানের শ্রমিকরা| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaহলেও তা যথেষ্ট ছিল না। ফলে বহু শ্রমিক বাগান ছেড়ে ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি জমান। বহু আন্দোলনের পরও চা বাগানের হাল ফেরেনি। একে একে সমস্ত সুযোগসুবিধা বন্ধ হয়ে য়াওয়ার পর ইদানীং ন্যূনতম মজুরিটুকুও মিলছে না। চা পর্ষদের নির্দেশ মেনে বাগানের কাঁচা পাতা তোলা বন্ধ। এখন যে কয়েকজন (সবমিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন) চা গাছের শীতকালীন পরিচর্যার কাজ করে চলেছেন অর্থাভাবে তাঁদের মজুরিও ঠিকঠাক দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি, বাগান পরিচালকদের অনুমতি সাপেক্ষে ছায়াগাছ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয় বাগান কর্তৃপক্ষ। ১৮ নম্বর সেকশন থেকে বাগানের ৩৫ নম্বর সেকশন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০টি বড় ছায়াগাছ কাটা হয়েছে। চা বাগানে দীর্ঘ কয়েক দশক পাতা তোলার অভিজ্ঞতা রয়েছে আশ্রম লাইনের বাসিন্দা শুকু ওরাওঁ এবং বিরসু লোহারের। তাঁদের মতে, ছায়াগাছ কেটে বাগানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বাগ্রাকোট থেকে নাথু লা গামী ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ৩০,০০০ চা এবং ছায়াগাছ উপড়ে ফেলার পর নতুন করে আবার ছায়াগাছ কাটা শুরু হওয়ায় অশনিসংকেত দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা। এতে সামযিক সুরাহা হলেও আগামীদিনে ভয়াবহ ফল ভুগতে হবে বলে আশঙ্কা শ্রমিক মহলের।

৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নির্মাণকারী সংস্থার তরফে ৩০,০০০ গাছ কাটার ক্ষতিপূরণ হিসেবে গোয়েঙ্কা গোষ্ঠীর হাতে ১০ কোটি ৩৪ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৮১ টাকার তহবিল তুলে দেওয়া হলেও তার কানাকড়িও শ্রমিকদের বকেয়া মেটানোর জন্য খরচ করেনি মালিকপক্ষ। এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাগ্রাকোট বাগান কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে কয়েকজন ক্রেতা বাগানের বন্ধ কারখানা, অফিস সহ যাবতীয় বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখে গিয়েছেন। আগ্রহী ক্রেতাদের পক্ষে বি পি ভট্টাচার্য বলেন, এদিন আমরা বাগান ঘুরে দেখেছি। এরপর বাগানের মালিকপক্ষ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

- Advertisement -

এদিকে, শীতের এই মরশুমে কাজ হারানো বাগ্রাকোট চা বাগানের শ্রমিকদের ১০০ দিনের কাজ দিয়ে সাময়িক স্বস্তি দিতে চাইছে প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে মালের মহকুমা শাসক বিবেক কুমার বলেন, ওই চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য স্পেশাল জিআর দেওয়া হচ্ছে। তাদের ১০০ দিনের কাজও দেওয়া হবে। এর বাইরে আর কী করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, চা বাগানের এই অচলাবস্থার মাঝে মুখ খুলতে নারাজ ডানকানসের মালিকপক্ষ থেকে শুরু করে বাগানের ম্যানেজার রাকেশ ভুজেল সকলেই। একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের অধিকাংশই ফোন ধরেননি। কেউ ফোন ধরলেও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।