চিকিৎসকের শূন্যপদ ২২, পরিষেবা দিতে সমস্যা দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে

373

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : চিকিৎসকের অভাবে বহির্বিভাগে পরিষেবা দিতে গিয়ে একপ্রকার হিমসিম খেতে হচ্ছে মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। গত কয়েক বছর ধরে চিকিৎসক সংকটে ভুগছে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল। অন্য বিভাগে সংকট কিছুটা কম থাকলেও জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসার পদে ২২ জনের জায়গায় মাত্র একজন রয়েছেন। তাঁদের কাজ অন্য চিকিৎসকদের করতে হচ্ছে। ফলে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, ব্লাড ব্যাংক, জরুরি বিভাগে পরিষেবা দিতেও সমস্যা হচ্ছে।

গত এক বছরে মহকুমা হাসপাতালে পরিকাঠামোগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে মহকুমার সাধারণ মানুষের কাছে এই হাসপাতালের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। মহকুমা হাসপাতালে ২২ জন জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও সেই জায়গায় মাত্র একজন রয়েছেন। জেনারেল মেডিকেল ডিউটি অফিসাররা মূলত বহির্বিভাগের জরুরি পরিষেবা সহ বিভিন্ন কাজ সামলে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে মাত্র একজন জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসার থাকায় তাঁদের কাজ সামলাচ্ছেন অন্য চিকিৎসকরা। তার ফলে হাসপাতালের অন্য বিভাগে পরিষেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটছে। হাসপাতাল প্রশাসনের দাবি, চিকিৎসক সংকট মেটাতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও, তার কোনও সুরাহা হয়নি। কিছুদিন আগেই চালু হওযা ব্লাড ব্যাংকেও চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণ হয়নি। এর ফলে অন্য বিভাগের চিকিৎসকরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি, চিকিৎসক সমস্যার কারণে বহির্বিভাগে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখাতে আসা রোগীদেরও সমস্যা হচ্ছে। কেননা এখনও দন্ত, চোখ, অস্থি ও শিশু বিভাগে চিকিৎসকের সংকট থাকায় চিকিৎসকদের একেকজনকে একাধিক বিভাগ সামলাতে হচ্ছে। প্রায়ই বহির্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়।

- Advertisement -

বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসা আয়েশা বিবি বলেন, হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হলেও চিকিৎসকের সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের ভাবা উচিত। চিকিৎসকদের উপর যেমন চাপ পড়ছে, তেমনি রোগীদেরও অসুবিধা হচ্ছে। হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, যেভাবে তাঁদের একাধিক বিভাগ সামলাতে হচ্ছে, তাতে কাজ করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। অনেকে চাপ সামলাতে না পেরে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সুপার রণজিৎ মণ্ডল বলেন, হাসপাতালের একাধিক বিভাগে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তার মধ্যে  জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসার না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। ২২ জন থাকার কথা থাকলেও মাত্র একজন রয়েছেন। সে কারণে অন্য বিভাগের চিকিৎসকরা এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। যার ফলে কিছুটা হলেও বাকি পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটছে। তবে সবাই একজোট হয়ে সহযোগিতা করায় সেই সমস্যা কিছুটা মেটানো যাচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।