মাথাভাঙ্গার সঙ্গে জুড়তে চায় শীতলকুচির ৪ গ্রাম

489

তাপস মালাকার, নিশিগঞ্জ : বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি চান মাথাভাঙ্গার প্রায় চার হাজার মানুষ। শীতলকুচি ব্লকের ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর মাঘপালা, পূর্ব ভোগডাবরি, ঝাউগুড়ি ও কুর্শামারি গ্রামের একটি অংশ মানসাই নদীর অপরপ্রান্তে অবস্থিত। মানসাই নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এই চারটি গ্রামের মানুষকে ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে কিংবা শীতলকুচি বিডিও অফিসে যেতে হলে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের নিশিগঞ্জ হয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এজন্য তাঁদের তিনবার গাড়ি বদল করতে হয়। তার ওপর শিবপুর ঘাট দিয়ে নৌকায় করে নদী পার করার ঝক্কি রয়েছে। বন্যা হলে ঘাটও বন্ধ থাকে। তাই এই চারটি গ্রামের মানুষের দাবি, তাঁদের মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের নিশিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত করা হোক।

এছাড়া, কুর্শামারির একটি অংশের বাসিন্দাদেরও মানসাই নদী পার হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের কুর্শামারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যেতে হয়। সেখানকার বাসিন্দারাও চান তাঁদের শীতলকুচি ব্লক থেকে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের সঙ্গে যুক্ত করুক সরকার। ওই গ্রামের বাসিন্দারাও একজোট হয়ে প্রশাসনের কাছে এই দাবি পৌঁছে দিতে চান। ওই চার গ্রামের বাসিন্দারা এনিয়ে প্রাথমিকভাবে বৈঠক করেছেন। গ্রামবাসীর একটা বড়ো অংশ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে তাঁদের আবেদন তুলে ধরতে চান। প্রযোজনে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও দরবার করতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

- Advertisement -

পূর্ব ভোগডাবরি গ্রামের বাসিন্দা সুজন রায় বলেন, আমাদের কষ্টের শেষ নেই। মানসাই নদীর বন্যায় প্রতিবছর গ্রামের বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েন। ভরা মানসাই পার হয়ে সব সময়ে ত্রাণও পৌঁছায় না। বয়স্ক মানুষদের নদী পেরিয়ে হাঁটাপথে গ্রাম পঞ্চায়ে বা বিডিও অফিসে যেতে হলে সারাদিন লেগে যায়। স্বাস্থ্য পরিসেবার ক্ষেত্রেও আমরা নিশিগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। তাই আমরা মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের নিশিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। ২ নম্বর মাঘপালা গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ রায় বলেন, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকায় আমাদের গ্রাম, পূর্ব ভোগডাবরি, ঝাউগুড়ি ও পূর্ব কুর্শামারি বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। গ্রামে যেমন নদীভাঙনের সমস্যা রয়েছে তেমনই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার জন্য সব ধরনের সরকারি পরিসেবাও পাওযা যায় না। বাইক নিয়ে নদীর ঘাট পারাপার হতে চল্লিশ টাকা করে মাশুল দিতে হয়। গ্রামে কোনো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই।

শীতলকুচির বিধায়ক হিতেন বর্মন বলেন, বিষয়টি গ্রামবাসী আমাকে জানিয়েছে। আমরা সব সময় ওই গ্রামগুলিতে সরকারি পরিসেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েঠি। তবে গ্রামগুলিকে অন্য ব্লক বা বিধানসভা এলাকার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে নেই। এবিষয়ে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন।