উৎপল সেন, হেলাপাকড়ি : প্রায় নবছর হেলাপাকড়ি থেকে পাকড়িতলা বাজার পর্যন্ত যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন বিস্তীর্ণ এই এলাকার অসংখ্য মানুষ। ময়নাগুড়ি ব্লকের পদমতি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বড়ো অংশ সহ মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভোটবাড়ি, নিজতরফ প্রভৃতি অঞ্চলের বাসিন্দারা পাকড়িতলা বাজারে এসে গাড়ি ধরেন। কিন্তু বর্তমানে এখানে যাত্রীবাহী কোনো গাড়ি ঢুকছে না। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরবর্তী হেলাপাকড়ি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসিন্দাদের গাড়ি ধরতে হচ্ছে। এর জন্য টোটো বা বিকল্প কোনো যানের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থব্যয়ে পাশাপাশি সময়েও অপচয় হচ্ছে। তাতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। কোড়তলি এলাকায় একটি জুনিয়ার হাই ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। শিক্ষকদেরও যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কমল রায়বসুনিয়া, দীনেশ অধিকারী, পবিত্র রায় প্রমুখ এলাকাবাসী বলেন, আগে হেলাপাকড়ি থেকে কোড়তলি হয়ে পাকড়িতলা বাজার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী গাড়ি চলত। রাস্তা খারাপ থাকায় ২০১১ সালে সেগুলি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ধাপড়া-ময়নাগুড়ি রুটের একটিমাত্র বাস এই রাস্তায় চলাচল করে। কিন্তু এখানে আসার পর তাতে আর যাত্রী ওঠার মতো পরিস্থিতি থাকে না। বছর তিনেক আগে রাস্তাও মেরামত হয়েছে। অথচ মালিকরা ইচ্ছাকৃতভাবেই গাড়িগুলি ঢোকাচ্ছেন না বলে তাঁদের অভিযোগ। দ্রুত এইসব গাড়ি চালুর দাবি করেছেন এলাকাবাসী। হেলাপাকড়ি মোটরকর্মী ইউনিয়নের সম্পাদক কলিন রায় বলেন, এক সময় রাস্তা খারাপের জন্য ওই রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু রাস্তা ঠিক হওয়ার পরেও কেন গাড়িগুলো যাচ্ছে না তা জানা নেই। গাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।

ইউনিয়নের সভাপতি তথা গাড়ির মালিক সুনীল বসাক বলেন, যাত্রীবাহী গাড়িগুলিকে সময় মেপে চলতে হয়। ওখানে গাড়ি ঢোকাতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে হেরফের হয়ে যায়। রাস্তায় রেলগেট থাকার কারণেও অনেক সময় অপচয় হয়। তাছাড়া বেশিরভাগ সময় পাকড়িতলা বাজার থেকে যাত্রী হয় না। ফাঁকা গাড়ি ফিরে আসায় তেলের খরচও ওঠে না। তবে যে গাড়িগুলির ওই অবধি পারমিট আছে, সেগুলি যাতে আবার চালু করা যায় সে ব্যাপারে তিনি উদ্যোগী হবেন বলে জানান সুনীলবাবু। পদমতি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লিপিকা রায় স্বীকার করেন বিষয়টি ওই এলাকার মানুষের বড়ো সমস্যা। তিনি বলেন, এনিয়ে এলাকাবাসীর তরফে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে গাড়ির ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলে পুনরায় যাতে গাড়ি চালু করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগী হব।