হলদিবাড়ি : তোলাবাজদের দৌরাত্ম্যে সরকারি প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।এতে সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয়ে পড়ছেন বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা। এমনই অভিযোগ তুলে হলদিবাড়ি ব্লকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বরাতপ্রাপ্ত বহিরাগত ঠিকাদাররা পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই কারণে ক্ষুব্ধ মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান।

বর্তমানে হলদিবাড়ি ব্লকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বড়ো বড়ো প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী বিধানসভাকে পাখির চোখ করে তিস্তার জয়ী সেতু, হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল যোগাযোগ, কৃষি হাব, স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড সহ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। প্রতিটি প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের প্রথমদিকে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এই কাজগুলির অধিকাংশ বহিরাগত ঠিকাদাররা বরাত পেয়েছেন। বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার অভিযোগ, এলাকার বেশকিছু যুবক বিভিন্ন অজুহাতে কাজের জায়গায় গিয়ে সমস্যা তৈরি করছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। আসলে কাজ বাধা দিয়ে টাকা আদায় করা এদের উদ্দেশ্য। এতে আর্থিক ক্ষতি সহ সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে।

একটি ঠিকাদার সংস্থার তরফে জয়ন্ত ঘোষ বলেন, ‘সোমবার স্থানীয় কিছু যুবক কৃষি হাবের নির্মীয়মাণ কংক্রিটের রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ আটকে দেয়।তাদের অভিযোগ ছিল, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে।অথচ শিডিউল অনুযায়ী সঠিকভাবেই রাস্তার কাজ করা হচ্ছিল। প্ল্যান্ট বসিয়ে সিমেন্ট, বালি ও পাথর মিশিয়ে লোহার রড দিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। কাজটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারও দেখে যান ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।স্টল তৈরিতেও শিডিউল অনুযায়ী বালি ও ইট ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ ওই যুবকরা নিম্নমানের অভিযোগ করে আমার কাছে কাছে টাকা দাবি করে।এই বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছি।’

পশ্চিমবঙ্গ কৃষি বিপনন দপ্তরের কোচবিহার জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির হলদিবাড়ি ব্লকের সদস্য অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, ‘কাজের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা করা যেতেই পারে।কিন্তু কাজের জায়গায় গিয়ে ব্যাঘাত কোনোভাবেই মানা যায় না।’ মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান বলেন, ‘যারা এই ধরনের কাজ করে সরকারি প্রকল্পে বাধা দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ছবি- হলদিবাড়ির কৃষি হাবের এই রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে টাকা চাওয়া হয়।

তথ্য ও ছবি- অমিত কুমার রায়