কোচবিহারে জলের জন্য হাহাকারের মাঝেই দেদার অপচয়

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : পানীয় জলের সমস্যা কিছুতেই যেন কোচবিহার পুরসভার পিছু ছাড়তে চাইছে না। শহরের কোথাও পানীয় জলের তীব্র সংকট, কোথাও দেদার অপচয় হচ্ছে। শহরের ১, ৩, ৮, ১৬ এবং ১৮ নম্বর সহ প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই পানীয় জলের সংকট রয়েছে। আবার প্রায় প্রতিদিনই শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন কল থেকে পানীয় জলের অপচয় হচ্ছে। বাসিন্দারা এর জন্য পুরসভার উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। উলটোদিকে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছে পুরসভা। চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, পানীয় জলের সংকট মেটাতে পুরসভার তরফে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হলেও অনেক সময় তাঁরা স্টপকক খোলা রাখায় জল নষ্ট হচ্ছে।

কোচবিহার শহরে পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কয়ে বছর ধরেই কোচবিহারে নানা আন্দোলন করে চলেছেন। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানোর লক্ষ্যে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বীরেন কুণ্ডুর আমলে পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ৬৫ কোটি টাকা খরচ করে ওই কাজ শুরু করা হলেও এখনও পর্যন্ত ওই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় সমস্যা মেটেনি। ফলে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানীয় জলের সংকট থেকেই গিয়েছে। বাসিন্দাদের কখনও লাইন দিয়ে পুরসভার জলের ট্যাংক থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয়। কখনও বা ভিড় ঠেলে টাইমকল থেকে জল সংগ্রহ করতে হয়। আবার উলটো ছবিও রয়েছে। য়ে সমস্ত এলাকায় নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ করা হয় সেগুলির বেশ কিছু জায়গায় মাঝেমধ্যেই জলের অপচয় হচ্ছে। শহরের রাজবাড়ির পিছনে থাকা ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিবমন্দিরের পাশে থাকা একটি টাইমকল থেকে পানীয় জল পড়ে কিছুটা এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে। এছাড়াও এই এলাকার বেশ কিছু জায়গায় বিভিন্ন সময় পানীয় জল অপচয়ে অভিযোগ রয়েছে।

- Advertisement -

১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রত্না দাস বলেন, অনেকেই জল নিয়ে স্টপকক বন্ধ না করেই চলে যান। এজন্য জলের অপচয় হয়। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে এই সমস্যা মিটবে না। শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্যামল রায় বলেন, এখানে পানীয় জলের সমস্যা নতুন নয়। বারবার পুরসভাকে জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। মাঝে মাঝে একেবারেই জল না পাওয়া গেলে পুরসভা থেকে ট্যাংক পাঠানো হয়। আবার পথ চলার সময় অনেক জায়গাতেই দেখতে পাই জলের অপচয় হচ্ছে। পুরসভা কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যা মিটবে না বলে তাঁর দাবি। সমস্যা মেটাতে বাসিন্দারা দ্রুত পুরসভার কাছে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।