অধ্যাপকের উদ্যোগে বামনগোলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রন্থাগার

279

স্বপনকুমার চক্রবর্তী, বামনগোলা : ‘পড়িলে বই,  আলোকিত হই। না পড়িলে বই, অন্ধকারে রই।’ সেই অন্ধকারে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রাখার মানুষ আজ বড্ড বিরল, কিন্তু বিলুপ্ত নন। তাঁরা কাজ করে যান। নিভৃতে, নীরবে। মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো জ্বালানোর অঙ্গীকার সফল করতে বামনগোলার প্রত্যন্ত ডোবাডাঙা গ্রামে অধ্যাপক ডঃ বাসুদেব সরকারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে উদ্বোধন হল একটি গ্রন্থাগারের। শনিবার বিকেলে ফিতে কেটে বিশাখা স্মৃতি গ্রন্থাগার-এর উদ্বোধন করলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক বিকাশ রায়।

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওযায় খুশি বাসুদেববাবুও। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বামনগোলার প্রত্যন্ত গ্রাম ডোবাডাঙা। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। গ্রামে কোনো গ্রন্থাগার নেই। ফলে অবসর সময়ে বিভিন্ন বই পড়ার সুযোগও নেই। অবশেষে নিজস্ব জায়গায়, নিজের খরচে একটি গ্রন্থাগার চালু করতে পেরে খুব আনন্দ হচ্ছে। রামপুরহাট কলেজের অধ্যাপক বাসুদেব সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে এদিন উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষিক, শিক্ষিকা, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তন সরকারি গ্রন্থাগারিক এবং প্রচুর বইপ্রেমী মানুষ। গ্রন্থাগার উদ্বোধনের পর দাল্লা চন্দ্রমোহন বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক জয়দেব লাহিড়ি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দেবে। উদ্বোধক অধ্যাপক বিকাশ রায় বলেন, মালদার একটা প্রান্তিক এলাকায় অধ্যাপক বাসুদেব সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে সকলের জন্য একটি গ্রন্থাগারের স্থাপনা এককথায় অভিনব প্রয়াস। এমনভাবে গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় যদি গ্রন্থাগার গড়ে ওঠে, তাহলে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে বইয়েরও প্রসার ঘটবে। বাসুদেব সরকারের এই উদ্যোগকে আমি কুর্নিশ জানাচ্ছি।

- Advertisement -