দীর্ঘসময় স্ক্রিনের ব্যবহারে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি

55

এটা বললে একটুও অত্যুক্তি হবে না যে, আমাদের জীবনের উভয় দিক, অর্থাত্ কাজ এবং অবসর অনস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে। আধুনিক কর্মসংস্কৃতিতে দীর্ঘসময় ধরে আমাদের কম্পিউটারে কাজ করতে হয়, কোনও বিরতি ছাড়াই। ডিজিটাল পরিষেবা এবং ডিভাইসের সম্প্রসারণ বিশ্বকে স্ক্রিনের মধ্যে সীমিত করেছে এবং আমরা এতে আবদ্ধ হয়েছি। গত কয়েক বছর ধরেই স্ক্রিন ব্যবহারের সময় বেড়েছে। তবে কোভিড মহামারিতে এর ব্যবহার যেন মাত্রা ছাড়িয়েছে।

দীর্ঘসময় ধরে স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পড়ে। যেমন, ঘাড়ে ব্যথা, চোখে ওপর চাপ, উদ্বেগ, স্থূলতা সহ নানা সমস্যা দেখা যায়। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, যত বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করবেন, তত আপনি স্ট্রোকের ঝুঁকির কাছাকাছি যাবেন।

- Advertisement -

আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের স্ট্রোক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা শারীরিকভাবে সক্রিয়, তাঁদের তুলনায় ৬০ বছরের কমবয়সি এবং যাঁরা দীর্ঘসময় স্ত্রিন ব্যবহার করেন, তাঁদের স্ট্রোকের প্রবণতা ছিল। ওই সমীক্ষার দাবি, এক ঘণ্টা স্ক্রিন ব্যবহারেও হৃদরোগ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি থাকতে পারে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের একটি সমীক্ষা বলছে, স্ট্রোক এবং স্ক্রিনের ব্যবহারের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক রয়েছে। যদি কেউ ২ ঘণ্টা ধরে স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা আসক্তির পর্যায়ে পড়ে এবং স্ট্রোকের আরও ২০ শতাংশ ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সমীক্ষার ফলাফলগুলি সত্যিই উদ্বেগজনক। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ক্রমে বাড়ছে। তারা যেভাবে প্রায় সবসময় মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের সঙ্গে আঠার মতো সেঁটে থাকে, তাতে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি থেকেই যায়। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল রংয়ের আলো মেলাটোনিন উত্পাদন কমিয়ে দেয়। মেলাটোনিন হল রাতে নিঃসৃত হরমোন, যা ঘুমোনো-জেগে ওঠার চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে রুটিনে ব্যাঘাত ঘটে এবং সময়মতো ঘুমোনো এবং জাগা কঠিন হয়ে যায়।

তাহলে কীভাবে আপনি সমস্যার মোকাবিলা করবেন? স্ক্রিনে যে কাজই করুন না কেন, মাঝে মাঝে বিরতি নিন। জিমে না গিয়ে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে। সকাল সকাল দিন শুরু করা, হাঁটাহাঁটি এবং কিছু যোগব্যায়াম অবশ্যই আপনাকে সুস্থ  থাকতে সাহায্য করতে পারে।