শিলিগুড়িতে অবৈধ হোটেলে রাতে মহিলাদের নিয়ে ফুর্তি

ছবি: সূত্রধর

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : রাত বাড়তেই শিলিগুড়ি শহরে বাড়ছে বহিরাগতদের আড্ডা। বিহার সহ ভিনজেলা থেকে গাড়িতে বহিরাগতরা আসছে শহরে। মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন বারে মদ্যপানের পর চলে যাচ্ছে হোটেলে। এরপর সেখানে চলছে মহিলাদের নিয়ে অসামাজিক কাজকর্ম। ভোর হতেই হোটেল থেকে বেরিয়ে চলে যাচ্ছেন মহিলারা। সকালে গাড়ি নিয়ে শহর ছাড়ছে বহিরাগতরা। মূলত শিলিগুড়ি জংশন সংলগ্ন এলাকা এবং নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন এলাকার হোটেলে এই ধরনের অবৈধ কারবার চলছে। পুলিশের দাবি, প্রতি রাতেই শহরের বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট, হোটেলে পুলিশের অভিযান চলছে। বিশেষ করে হোটেলগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশের এই সাফাইয়ে পরেও যে শহরে বহিরাগতদের আনাগোনা এবং হোটেলে অবৈধ কার্যকলাপ চলছে তা ভোরবেলা জংশন সংলগ্ন এলাকার হোটেলের কাছে গেলেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। দীপাবলির রাতেও প্রচুর বিহার নম্বরের গাড়ি আসে জংশনের হোটেলের সামনে। শহরে প্রায় ১০০টি লাইসেন্সবিহীন হোটেলে এই অসামাজিক কাজকর্ম হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ। তিনি বলেন, শিলিগুড়িতে প্রায় ২৫০টি হোটেল রয়েছে। এদের সমস্ত কাগজপত্র ঠিক রয়েছে। এই হোটেলগুলি থেকে নিয়মিত অনলাইনে পুলিশের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়। কিন্তু বেআইনি হোটেলগুলি থেকে অনলাইনে কোনও রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে না। তাই সেগুলি নজরদারির বাইরে থাকছে। সেগুলিতেই চলছে সমস্ত অবৈধ কাজ। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) জয় টুডু বলেন, শহরজুড়ে পুলিশের দল সক্রিয় রয়েছে। নাকা চেকিং চলছে, পুলিশের টহলদারি ভ্যান সর্বত্রই নজর রাখছে। হোটেলগুলিতেও নজরদারি চলছে।

- Advertisement -

শিলিগুড়িতে বহিরাগতদের আনাগোনা নতুন কিছু নয়। কাছেই বাংলাদেশ, নেপাল সীমান্ত থাকায় এমনিতেই প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি রাখার কথা। বিহার কিংবা ভিনরাজ্য থেকে শহরে এসে অপরাধ সংগঠিত করার একাধিক উদাহরণও রয়েছে। কখনও স্বর্ণ ঋণপ্রদানকারী সংস্থায় পিস্তল নিয়ে ঢুকে ডাকাতি, আবার কখনও পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি, কখনও আবার ধাবায় বসে নিজের ক্ষমতা দেখাতে শূন্যে গুলি চালানো। সব ক্ষেত্রেই ভিনরাজ্যের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিহারের দুষ্কৃতীদের যোগ রয়েছে। তাই শহরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি হোটেলগুলিতেও যে নজরদারি প্রয়োজন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কোন হোটেলে কারা থাকছেন তার একটা তালিকা যেমন হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে তেমনই নিয়মিত তা স্থানীয় থানায় জমা দেওয়ার কথা। থানারও সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার কথা। কিন্তু শিলিগুড়ির ১০০-রও বেশি বেআইনি হোটেলের কোনও তথ্যই নেই পুলিশের কাছে। এদের লাইসেন্সও নেই, হোটেল চালানোর কোনও অনুমতিও নেই।

এই হোটেলগুলিতেই মধুচক্র থেকে শুরু করে অপরাধমূলক কার্যকলাপ, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কখনও কোনও ঘটনা, দুর্ঘটনা ঘটলে সেই সময় গিয়ে বেআইনি হোটেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। ফলে অনায়াসে শহরে বিভিন্ন হোটেলে অপরাধমূলক কাজকর্মের পাশাপাশি অসামাজিক কাজকর্ম চলছে। মোটা টাকার বিনিময়ে এইসব হোটেলে ঘণ্টা, দিন হিসেবে ঘর ভাড়া মিলছে। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে হোটেলগুলিতে ঘর বুক করা হচ্ছে। অভিযোগ, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দায় এই হোটেলগুলির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই অবিলম্বে বিষয়টির ওপর নজরদারির দাবি উঠেছে।