পশ্চিমবঙ্গকে বিপদ থেকে রক্ষা করুন, অডিও বার্তা বুদ্ধদেবের

90
ছবিঃ সংগৃহীত।

কলকাতা: ভোটের আগে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এদিন বুদ্ধদেব একটি অডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি সকলের উদ্দেশে বাংলায় গণতন্ত্র ফেরানোর কথা বলেন। ২৭ মার্চ থেকে রাজ্যে ভোট শুরু হয়েছে। ২৯৪টি আসনে ভোট হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ভোট ১ এপ্রিল। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁরই একসময়ের বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছে সিপিএমের যুব নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে ভোটের আগে বুদ্ধবাবুর বার্তা দলীয় নেতানেত্রী ও কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করবে।

বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফের সংযুক্ত মোর্চা জোট এবার ভোটে লড়ছে। নন্দীগ্রামে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কসবায় শতরূপ ঘোষ, বালিতে দিপ্সিতা ধর, জামুরিয়ায় ঐশি ঘোষ, রায়দিঘিতে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, বালিগঞ্জে ফুয়াদ হালিম, যাদবপুরে সুজন চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী সিপিএম সহ সংযুক্ত মোর্চা জোট। বুদ্ধদেবের অডিও বার্তার পর উজ্জীবিত সিপিএম প্রার্থীরা ভোটে কতটা ভালো ফল করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। মঙ্গলবার বিকেলে অডিও বার্তায় বুদ্ধদেব বলেন, ‘নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়ে নিতে হবে।’

- Advertisement -

অসুস্থতার কারণে বুদ্ধদেব বহু দিন আগেই নিজেকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে নিয়মিত দলের খবরাখবর নেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ‘পশ্চিমবঙ্গকে বিপদ থেকে রক্ষা করুন। বাংলায় গণতান্ত্রিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার গড়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করুন আপনারা।’ সোমবার বুদ্ধদেবের একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেছিল সিপিএম। তারপর এদিন তাঁর অডিও বার্তা প্রকাশ্যে এল। সেই বার্তায় বুদ্ধদেবের মুখে নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘রাজ্যে বিধানসভা ভোট শুরু হয়েছে। বামফ্রন্টের আমলে আমাদের স্লোগান ছিল, কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। সেই চিন্তাভাবনা নিয়েই আমরা এগিয়েছি। কৃষিতে যেমন সাফল্য এসেছিল, পাশাপাশি শিল্পেরও প্রসার ঘটছিল। বামফ্রন্টের অপসারণের পর তৃণমূল সরকার রাজ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। কৃষি ও কৃষক সংকটে।’

বুদ্ধদেব বলেন, ‘বাংলায় শিল্প, শিল্পায়ন সম্পূর্ণ স্তব্ধ। ১০ বছরে তেমন কোনও শিল্প আসেনি। শিক্ষায় নৈরাজ্য চলছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়ছে। মহিলাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। এভাবে চলতে পারে না। যুব সম্প্রদায় হতাশ। তাঁদের অনেকেই রাজ্য ছাড়ছেন।’

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মতে, তৃণমূল-বিজেপি, দুটি দলই রাজ্যের পক্ষে ভয়ঙ্কর। একমাত্র সংযুক্ত মোর্চার ধর্ম নিরপেক্ষ জোটই বাংলাকে বাঁচাতে পারবে। সকলের কাছে তাঁর আবেদন, ’বাংলাকে বিপদ থেকে রক্ষা করুন।’