পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের সামগ্রী ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ

307

বর্ধমান: শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের চাল, ডাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠল শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের কলুপুকুর শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। চাপে পড়ে শিক্ষিকা মুচলেকা দিয়ে অভিভাবকদের কাছে চাল ও ডাল ওজনে কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে নেন। পরে তিনি নির্দিষ্ট ওজনে চাল ও ডাল পড়ুয়াদের অভিভাবকদের বুঝিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জৌগ্রামের কলুপুকুর গ্রামের ৪৫০ নম্বর শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের পড়ুয়া সংখ্যা ৬৬। করোনা অতিমারীর কারণে প্রায় চার মাস ধরে পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে। নিয়ম মেনে শুধুমাত্র এখন পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল দেওয়া হচ্ছে। পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল দেওয়ার জন্য সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে পৌঁছান শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ ও তাঁর সহায়িকা জবা হালদার। পড়ুয়াদের নিয়ে মিড-ডে মিলের চাল ও ডাল নিতে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে আসেন অভিভাবকরা। চাল ও ডাল দেওয়া শুরুর খানিক পর থেকেই শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে আসা অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

- Advertisement -

অভিভাবক প্রীতিলতা বারুই ও জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য রিনা এদবর বলেন, ‘সরকার থেকে পড়ুয়া প্রতি ২ কেজি চাল ও ২৫০ গ্রাম মুশুর ডাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই শিক্ষিকা পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের চাল ও ডাল ওজনে কম দিয়ে যাচ্ছেন। এদিনও তাঁরা প্রত্যেক পড়ুয়াকে চাল ৩০০-৪০০ গ্রাম কম দেন। ডালও কাউকে ৩০ গ্রাম আবার কাউকে ৪০ গ্রাম কম দেওয়া হয়। শিক্ষিকা ও তাঁর সহায়িকার এই কীর্তি ধরা পড়ার পরেই অভিভাবকরা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। তারপরেই ভোল বদলান শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষিকা ও তাঁর সহায়িকা।’

কলুপুকুর গ্রামের বাসিন্দা মনোজ মণ্ডল বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিয়ে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের চাল ও ডাল ওজনে কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে নেন। পরে তিনি নির্দিষ্টভাবে ওজন করে চাল ও ডাল অভিভাবকদের বুঝিয়ে দেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’

অভিভাবকদের অভিযোগ, জেনে বুঝে শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ ও তাঁর সহায়িকা জবা হালদার যদিও ওজন যন্ত্রে কারচুপি করে ওজনে কম দিচ্ছেন। যদিও শিক্ষিকা সুপ্রিয়া ঘোষ দায় এড়িয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের কেন্দ্রের ওজন যন্ত্রে গোলযোগ থাকায় এমন সমস্যা হচ্ছে। পরে অভিভাবকরা তা ধরিয়ে দেওয়ায় তাঁদের সঠিক ওজনে চাল ও ডাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘জামালপুর থানার ওসির কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারি। ব্লকের আইসিডিএস আধিকারিককে সবিস্তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’