র‍্যাশনে কারচুপির প্রতিবাদ, গ্রাহকদের ‘বিজেপির লোক’ তকমা ডিলারের

125

পুরাতন মালদা: র‍্যাশন দোকানের ডিলারশিপ একজনের নামে। অথচ র‍্যাশন দিচ্ছেন অন্য কেউ। যিনি আবার শাসকদলের নেতা। আবার সেই র‍্যাশনের চাল, গম, কেরোসিন দেওয়া হচ্ছে আলাদা আলাদা জায়গা থেকে। সপ্তাহে মাত্র তিনদিন খোলা থাকছে র‍্যাশন দোকান। এমনকি গ্রাহকদের প্রাপ্য র‍্যাশন না দিয়ে সেখানেও চলছে কারচুপি। আর প্রতিবাদ করতে গেলেই খোদ ডিলার তকমা দিচ্ছেন ‘বিজেপির লোক’। এমনই অভিযোগ উঠেচে পুরাতন মালদায়।

পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের মেহেরপুরের র‍্যাশন ডিলার কেয়ামৎ শেখ অ্যান্ড সন্স। র‍্যাশন দোকান চালান কেয়ামৎ শেখের দুই ছেলে নূর শেখ ও নূর আলম। তাদের অধীনে র‍্যাশন গ্রাহকের সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি। তবে র‍্যাশনের লাইসেন্স নূর ভাইদের নামে থাকলেও র‍্যাশন দেন রতন সরকার নামে শাসকদলের এক প্রভাবশালী নেতা। মেহেরপুরে নূর ভাইদের নিজেদের বাড়ি থেকে র‍্যাশন দেওয়ার পাশাপাশি পোপড়ার রতন সরকারের বাড়ি থেকেও বিলি করা হয় র‍্যাশন সামগ্রী। আর তাতেই বাড়ছে সমস্যা। র‍্যাশনের চাল, গম, তেল কোথায় মিলবে তা নিয়েই ধন্দে পড়ে যান গ্রাহকরা। কখনও চাল, গম মিলছে নূর ভাইদের বাড়ি থেকে তো কখনও কেরোসিন তেল, চিনি মিলছে রতন সরকারের বাড়ি থেকে। অগত্যা র‍্যাশন নিতে থলে, বস্তা হাতে তিন কিলোমিটার পেরিয়ে কখনও পোপড়া তো কখনও মেহেরপুরে দৌড়োতে হচ্ছে বলে অভিযোগ র‍্যাশন গ্রাহকদের। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ, দোকানও খোলা থাকে সপ্তাহে মাত্র তিনদিন। এমনকি ন্যায্য প্রাপ্যটুকুও দেন না র‍্যাশন ডিলার। এই নিয়ে র‍্যাশন ডিলারের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখান র‍্যাশন গ্রাহকরা।

- Advertisement -

অশোক সরকার নামে এক গ্রাহক জানান, পোপড়ায় রতন সরকারের দোকান থেকে চাল, গম দেওয়া হত। হঠাৎ বলা হয়, নূরদের দোকান থেকে র‍্যাশন নিতে। এখানে এসে র‍্যাশনের স্লিপ দিলেও তিন ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে ডিলার জানান যে, র‍্যাশনের সামগ্রী দেওয়া হয়ে গিয়েছে। র‍্যাশনের সামগ্রী চুরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন গ্রাহকরা। এদিকে, যেই গ্রাহকরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তাঁরা ‘বিজেপির লোক’ বলে তকমা এঁটে দেন র‍্যাশন ডিলার নূর আলম। তাঁর দাবি, ওই গ্রাহকরা বিজেপির লোক। ঝামেলা করার জন্যই এরকম করছেন। আর ডিলারের এই মন্তব্যের জেরে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরে কার্যত নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত র‍্যাশন ডিলার। যদিও তাঁর ‘অবৈধ’ কাজকর্মের উপযুক্ত তদন্ত দাবি করেছেন বাসিন্দারা। এই বিষয়ে পুরাতন মালদা ব্লক খাদ্য নিয়ামকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।