পাথর বোঝাই ডাম্পার আটক করে বিক্ষোভ

56

কামাখ্যাগুড়ি: সরকারি বিধিনিষেধ আমান্য করে অসমে যাচ্ছে পাথর বোঝাই ডাম্পার। এই অভিযোগ তুলে ডাম্পার আটকে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার পাথর ব্যবসায়ীরা। শনিবার কুমারগ্রাম ব্লকের খোয়ারডাঙার শিববাড়ি এলাকায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

এদিন অসম নম্বরের ৪টি ডাম্পার আটক করেন এলাকার পাথর ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করে গত কয়েকদিন ধরে ডাম্পার পাথর নিয়ে অসমের দিকে যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী লকডাউনে নদী থেকে পাথর তোলা যেমন বন্ধ রয়েছে, ঠিক তেমনি বালি-পাথর পরিবহণও বন্ধ। সরকারি নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে তাঁরাও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রেখেছেন বলে জানান। কিন্তু ভিনরাজ্যের ৪টি ডাম্পার কী করে পাথর নিয়ে অসমে যাচ্ছে, তা নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী বিশ্বপতি বসুমাতা জানান, রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছিল যে ৩০ মে পর্যন্ত কোনও পাথরের গাড়ি চলবে না। কিন্তু অসম থেকে ডাম্পার এসে বেআইনিভাবে রায়ডাক ২ নম্বর নদী থেকে পাথর নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের নির্দেশ মতো তাঁরাও পাথরের ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। এতে তাঁদের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু অসমে পাথর নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা মানতে পারছেন না।

- Advertisement -

এদিন অবরোধের জেরে ঘণ্টা দেড়েক বন্ধ থাকে তেলিপাড়া-মারাখাতা রাজ্য সড়ক। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় কুমারগ্রাম থানার কামাখ্যাগুড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পুলিশ। ৪টি ডাম্পার আটক করে নিয়ে যায়। এরপরই স্বাভাবিক হয় এলাকার পরিস্থিতি।

কুমারগ্রাম থানার আইসি বাসুদেব সরকার জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই কিছু ডাম্পারকে পাস দেওয়া হয়েছে। ৪-৫ দিন আগে একটি নির্দেশিকা এসেছে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব কাজগুলো বর্ষার আগে সম্পন্ন করে ফেলতে হবে বা যেই কাজগুলো জরুরি সেগুলো চলবে। কিছু রাস্তা, বাঁধের কাজ সহ বেশ কিছু নির্মাণ কাজে ওই নির্দেশিকায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাই কিছু গাড়িকে পাস দেওয়া হয়েছে। কুমারগ্রাম থানা এলাকায় এমন ১০-১২টি গাড়িকে পাস দেওয়া হয়েছে। অসম নম্বরের বিষয়ে আইসি জানান, অসমের অনেক গাড়িই চলাচল করে এরাজ্যে। নির্দেশিকা মেনে স্থানীয় ডাম্পার মালিকরা আবেদন করলে খতিয়ে দেখে স্বল্পসংখ্যায় অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এই বিষয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশিকা রয়েছে বলে জানান তিনি।