কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ অভিযান, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল আরও ৪ রাজ্যের কৃষক

343

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় কৃষি আইন নিয়ে কৃষক অসন্তোষ ক্রমশ দানা বাঁধছে। শুক্রবার দিল্লিতে প্রতিবাদ অবস্থানে পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকদের সমর্থন জানালেন মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের কৃষকরা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাঁরা রাজধানীর বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশে গতকাল রাজ্যজুড়ে কৃষকরা কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হন। পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও মধ্য প্রদেশ থেকে দলে দলে কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশে মিছিল শুরু করার পরে শনিবার দিল্লি-উত্তর প্রদেশ সীমান্তে একাধিক সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -

গতকাল দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের সোনিপত ও ঝাজ্জরে কয়েক ঘণ্টা জুড়ে কৃষকদের মিছিল রুখতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে বিক্ষুব্ধদের রুখতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। শেষে বিকেলে বাধ্য হয়েই পঞ্জাব হরিয়ানার কৃষকদের দিল্লি প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়। আপাতত তাঁরা উত্তর দিল্লি শহরতলির বুরারিতে নিরংকারী সমাগম মাঠে অবস্থান করছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের কমপক্ষে ১২টি জেলায় প্রতিবাদে সরব হন কৃষকরা। বিক্ষোভের জেরে রাজ্যের প্রধান সড়কগুলিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এদিনও দিল্লির উদ্দেশে ট্রাক্টর-সহ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন কৃষক সংগঠনের নেতারা। চারদিকে চরম উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল ওডিশায় তিন প্রতিবাদী কৃষক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। জানা গিয়েছে, ওডিশা বিধানসভার সামনেই কটকের অথাগড় ব্লকের ওই তিন কৃষক গায়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। ওডিশা বিধানসভায় এখন শীতকালীন অধিবেশন চলছে। এই নিয়ে সেখানে কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীরা দৌঁড়ে সেখানে পৌঁছোলে কৃষকদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত করেন। পরে, ওই তিন কৃষককে আটক করা হয়। একইভাবে আগ্রায় তিন নম্বর জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন মধ্য প্রদেশের কৃষকরা।

দিল্লির বিক্ষোভ অবস্থানে যোগ দেওয়ার জন্য রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর, হনুমানগড় ও শিকার জেলার কৃষকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছে অখিল ভারত কিষাণ সভার সদস্যরা। উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর থেকে আসা দিল্লিমুখী প্রতিবাদী কৃষক মিছিল উত্তর প্রদেশের রামপুরে আটকে দেয় পুলিশ। তার জেরে রামপুরের জাতীয় সড়কের উপরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করেন কৃষকরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে জাতীয় সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের থানে, আহমেদনগর, নাশিক, সাংলি ও ওয়ার্ধায় কেন্দ্র-বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হন কৃষকরা। কৃষক বিক্ষোভের আঁচ থেকে রেহাই পায়নি অন্ধ্র প্রদেশও। গতকাল বিজয়ওয়াড়া শহরে অখিল ভারত কিষাণ সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরপে একটি বিক্ষোভ সভার আয়োজন করা হয়। তাতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। বেশ কয়েক জন প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।