আদিগঙ্গায় নেমে অভিনব প্রতিবাদ শিক্ষামিত্র ও অ-অনুমোদিত মাদ্রাসা শিক্ষকদের

262

কলকাতা: মঙ্গলবার সকালে শিক্ষামিত্র ও রাজ্যের অ-অনুমোদিত মাদ্রাসার শিক্ষকদের অভিনব বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায়। পুলিশের চোখ এড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে আদিগঙ্গার কোমর জলে নেমে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পিছন দিয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হওয়ার চেষ্টা করলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলটি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে হওয়ায় ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতা পুলিশের নগরপাল সোমেন মিত্র সহ উচ্চপদস্থ অন্য আধিকারিকরা। পুলিশ আদিগঙ্গার জল থেকে তুলে মহিলা ও পুরুষ মিলে মোট ৬ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের শিক্ষকরা সমকাজে সমবেতন, চাকরিতে স্থায়ীকরণ সহ বিভিন্ন দাবিতে বিধান নগরের বিকাশ ভবনে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের উলটোদিকে দুই মাস ধরে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে চক্ররেল-এর গুদামের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ ও রিলে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন অ-অনুমোদিত মাদ্রাসার শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা সত্ত্বেও গত ৯ বছর তাঁরা যেমন কোনও বেতন পাচ্ছেন না, তেমনই তাঁদের মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা মিড-ডে-মিল-এর সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকে দাবির বিষয়টি জানানো হলেও রাজ্য সরকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। বিক্ষোভকারীদের দাবি, রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী বারবার বলছেন, ধাপে ধাপে পার্শ্ব শিক্ষকদের স্থায়ী করা হবে, অ-অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলির মধ্যে ২৩৫টি মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকারা সহকারী শিক্ষকদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কিন্তু নয় বছর কেটে গেলেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

- Advertisement -

মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন দক্ষিণ কলকাতার গোপালনগরে কাছে আলিপুর ডাকঘরের সামনে জড়ো হন। আর দশ সদস্যের অপর একটি দল এসে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পিছনে আদিগঙ্গার পশ্চিম পাড়ে। এরপর তাঁরা দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে আদিগঙ্গার জলে নেমে পড়েন। কোমর জল ভেঙে তাঁরা পিছন দিক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছোনোর চেষ্টা করেন।

সেসময় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে পড়ে যান বিক্ষোভকারীরা। এতে হইচই পড়ে যায়। বিশাল পুলিশবাহিনী ও কলকাতা পুলিশের নগরপাল ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।