বিজেপি নেতা গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

328

গাজোল: বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল বিজেপি। ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল এবং তারপর পথসভা করে পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেয় বিজেপি নেতৃত্ব। এদিনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির রাজ্য কার্যকরী কমিটির সদস্য সুদীপ্ত চ্যাটার্জী, ৬ নম্বর জেলা পরিষদ আসনের মন্ডল সভাপতি ঠাকুরদাস সরকার সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, পুলিশ যা করেছে আইন অনুযায়ী সঠিক কাজই করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে যে বিষয় নিয়ে কোন কিছুই বলা হয়নি। মানুষের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে তা তুলে ধরছে বিজেপি। এর ফলে সমাজে একটা ঘৃণার বাতাবরণ তৈরি হতে পারে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, বিজেপির প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি তথা বর্তমান জেলা কমিটির সদস্য চিন্ময় দেব বর্মন একটি সাংগঠনিক সভায় বক্তব্যে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি থানাতে নির্দেশ দিয়েছেন এবার দুর্গাপুজো করা হবে না। একটি গ্রুপ থেকে সেই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিও। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রবিবার গাজোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে রবিবার রাতে মালদার বাইপাস সংলগ্ন একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চিন্ময় দেব বর্মনকে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিকেলে গাজোল শহর এলাকায় প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিজেপি। মিছিল শেষে সন্ধ্যেবেলা বিদ্রোহী মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় পথসভা। সভায় বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা সুদীপ্ত চ্যাটার্জী বলেন, রাজ্যজুড়ে খুন, সন্ত্রাস এবং রাহাজানি চলছে। বিভিন্ন এলাকায় মহিলারা ধর্ষিতা হচ্ছেন। বিজেপি কর্মীদের খুন করা হচ্ছে, এই সমস্ত ঘটনায় যারা যুক্ত তাদের খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। অথচ গাজোলে বিজেপি নেতা চিন্ময় দেব বর্মন পার্টির একটি সাংগঠনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারের সমালোচনা করে কিছু বক্তব্য পেশ করেছিল। কে বা কারা সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়। এরপর তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতেই হোক বা পুলিশ নিজেই স্বতপ্রণোদিত মামলার ভিত্তিতে চিন্ময়কে বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখে যে তৎপরতার সঙ্গে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে সেফ কাস্টডির নামে কালিয়াচক থানায় নিয়ে যাওয়া হল তা অন্যায়। যে থানার পুলিশ নিজেরাই সুরক্ষিত নয়, সুরক্ষার নামে আমাদের নেতাকে নিয়ে যাওয়া হল সেই থানায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে মানুষের কাছে বার্তা দেওয়ার জন্য আমাদের আজকের এই কর্মসূচি।

বিধায়ক দীপালি বিশ্বাস বলেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী সঠিক কাজই করেছে। “দূর্গাপুজো করা যাবে না। এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দিয়েছে” বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে মানুষকে উসকে দিয়ে এক ঘৃণার বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। প্রতিটি ক্লাব বা পুজো উদ্যোক্তা ভালো ভাবে যাতে পুজো করতে পারেন সেই জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে। ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে, আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মিথ্যে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে বিজেপি। আসলে ওদের কাছে বলার মত আর কিছুই নেই। তাই এইরকম মিথ্যে কথা বলেই টিকে থাকতে চাইছে ওরা।