রাস্তা সংস্কারের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের  

363
এই রাস্তাটি সংস্কারের দাবি উঠেছে।

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ব্লকের ১১ নম্বর বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘুঘুডাঙ্গা মোড় থেকে জয়নগর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিমি রাস্তা বেহাল। এদিন রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে গ্রামবাসীরা দু’ঘন্টা বিক্ষোভ দেখান। যদিও পরে ব্লক প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা মঙ্গলবার বিডিওকে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় হাজার খানেক গ্রামবাসী এদিন সকাল ১১ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অবরোধ শুরুর আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল।

- Advertisement -

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ছোট ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে গৃহবধূ এবং পুরুষরা মাস্ক পরে অবরোধে শামিল হন। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের ফলে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে। জাতীয় সড়কের দু’পাশে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

অবরোধকারীদের বক্তব্য, প্রায় ৩ কিমি রাস্তা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দে ভরে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। বহুবার রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। তাই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতেই তাঁরা সড়ক অবরোধ করেছেন।

গ্রামবাসী প্রমথ মন্ডল বলেন, ‘১৫ বছর আগে এই রাস্তা তৈরি হয়েছিল। প্রতিবছর ভোট এলে রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অথচ আজ পর্যন্ত রাস্তায় এক গাড়ি পাথর পড়েনি। সেকারনে সবাই মিলে আন্দোলনে নেমেছি।‘

আন্দোলনকারীদের তরফে কমল রায় বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৫-৬ হাজার লোক যাতায়াত করেন। বর্ষা শুরু হতেই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নেতানেত্রীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্ত কেউ কথা রাখেননি।তাই লকডাউনের মধ্যেই জাতীয় সড়ক অবরোধে করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। ব্লক প্রশাসন রাস্তা মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে। তাই অবরোধ তোলা হয়েছে। কাজ না হলে ফের সড়ক অবরোধ করা হবে।’

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অবরোধ।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা রায়গঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান সঞ্জয় মিত্র বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল। গত বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে গ্রামের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমাদের প্রার্থী তপন দেব সিংহ জয়ী হলে রাস্তাটি করে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি আমরা অবশ্যই পালন করব। ইতিমধ্যেই রাস্তার প্ল্যান এস্টিমেট হয়ে গিয়েছে। লকডাউন না থাকলে টেন্ডারও হয়ে যেত। আশাকরি, যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হবে।

বিডিও রাজু লামা বলেন, ‘জয়েন্ট বিডিও সহ অন্যরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তাঁরা এখনও রিপোর্ট দেননি। তবে জানতে পেরেছি, রাস্তার জন্য শীঘ্রই টেন্ডার ডাকা হবে। অন্য প্রক্রিয়াগুলিও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।’