কয়লাখনি চালুর দাবিতে বিক্ষোভ কর্মীদের

96

আসানসোল: ইসিএলের সোদপুর এরিয়ার নরসমুদা কোলিয়ারি সহ অন্যান্য কোলিয়ারির খনিতে জল ঢুকে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ, কয়লা উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় খনি কর্তৃপক্ষ বা ইসিএল এসব খনিগুলি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। এরফলে এসব কোলিয়ারির খনি কর্মীদের কাজ হারানোর একটা আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রতিবাদে খনি থেকে জল বের করে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন চালু করার দাবিতে সোমবার ইসিএলের সোদপুর এরিয়া অফিসে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ও সোদপুর বাঁচাও কমিটির তরফে বিক্ষোভ করা হয়। এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই আন্দোলন চলে।

গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে জল ঢুকে যাওয়ায় আসানসোলের ইসিএলের নরসুমুদা কোলিয়ারির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোলিয়ারির ১৪০ জন কর্মীকে অন্য জায়গায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আর এতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন কোলিয়ারির কর্মীরা। তাদের আশঙ্কা এই বদলির মধ্য দিয়েই কোলিয়ারি কর্মী শুন্য করে দিয়ে আস্তে আস্তে খনিটিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইসিএলের সোদপুর এরিয়ার নরসুমুদা কোলিয়ারি নিয়ে ইতিমধ্যেই ডিরেক্টর জেনারেল অফ মাইন সেফটি বা ডিজিএমএস নির্দেশ জারি করে বলেছে চলতি বছরের আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকবে। কারণ অবৈধ কয়লা খনির সঙ্গে যেভাবে ইসিএলের এই বৈধ কোলিয়ারির ভেতরে সংযোগ হয়েছে। তাতে চাসনালার মত বিপজ্জনক ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনও দিন। তাই নিরাপত্তার কথা ভেবে আপাতত বন্ধ রয়েছে এই খনির উৎপাদন। এই কয়লাখনিতে দৈনিক কয়লা উত্তোলন হয় ১৫০ মেট্রিক টনের মতো। তারজন্য দৈনিক লাভ হত ১ লক্ষ টাকা। এই কয়লা খনি থেকে এখনও কয়লা উত্তোলন করা যাবে সাড়ে ৪ মিলিয়ন টন।

- Advertisement -

শ্রমিকরা জানান, এই খনির ভেতরে দিনের পর দিন জলে ডুবে দামি মোটর ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। হাইটেনশন মোটর আনলেই খনির জমা জল বাইরে বার করে আনা সম্ভব। কিন্তু সেই উদ্যোগ নিচ্ছে না ইসিএল। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, এভাবে খনির উৎপাদন বন্ধ দেখিয়ে ভূগর্ভস্থ খনিটিকে বন্ধ করে দেওয়া। তাদের আরও অভিযোগ, যেভাবে কোলিয়ারি চত্বরে রমরমিয়ে বেআইনি কয়লা খাদান চলছিল সেই সময় রাজ্য পুলিশ ও খনি কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে এই বিপত্তি হত না। কোলিয়ারি কতৃপক্ষের মত, কর্মীদের বসিয়ে না রেখে তাদের পাশের খনিতে অস্থায়ীভাবে বদলি করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্য কোনও কারণ নেই। খনি বন্ধ করার আশঙ্কা ভুল।