দলীয় ব্লক সভাপতির অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের

142

হরিশ্চন্দ্রপুর: শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল যেন থামতেই চাইছে না। হরিশ্চন্দ্রপুরে শাসক দলের অন্দরের বিবাদ পার্টি অফিসের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাস্তায় এসে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে তুলসিহাটার নবনির্বাচিত অঞ্চল সভাপতিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন ওই পঞ্চায়েতের সমস্ত সদস্যরা। তারপর মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে অযোগ্য লোককে অঞ্চল কমিটিতে জায়গা দেওয়া এবং সক্রিয় কর্মীদের ব্লক ও অঞ্চল কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা। এবারে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা রশিদাবাদে অঞ্চল সভাপতি নির্বাচন ইস্যুতে শুরু হল বিরোধ।
বিরোধের সূত্রপাত অঞ্চল সভাপতি শেখ জুয়েলকে নিয়ে। স্থানীয় দলীয় কর্মীদের অভিযোগ, ব্লক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরেই কাউকে কিছু না জানিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ জুয়েলকে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব দেন। এক বছরও হয়নি তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এরপরেই শুরু হয়েছে নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ। আরও অভিযোগ, ব্লক সভাপতি নিজের কাছের লোকদের অঞ্চল, ব্লকে জায়গা দিয়েছেন। সেই কারণেই সোমবার রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেখানো হয় বিক্ষোভ। শ্লোগান দেওয়া হয় ‘মানিক দাস হটাও, তৃণমূল বাঁচাও’।
স্থানীয় এক তৃণমূলকর্মী আলী হোসেন জানান, এই পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মীদের প্রায় অন্ধকারে রেখেই ব্লক সভাপতি মানিক দাস নিজের লোককে অঞ্চল সভাপতি বানিয়ে দিয়েছেন। যে লোকটি বর্তমানে অঞ্চল সভাপতি হয়েছেন তিনি সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। মানিক দাস নিজেও আগে কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর আরও বক্তব্য, বর্তমান ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে তাঁদের লাগাতার আন্দোলন চলবে।
হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মানিক দাস জানান, বর্তমানে এই ব্লকের অঞ্চল কমিটিগুলি সম্পূর্ণ জেলা কমিটির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে। এটাতে তাঁর কোন হাত নেই। তৃণমূল একটা বিশাল বড় পরিবার। সেখানে ছোট বিষয় নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। পরে তাঁরা সবাই মিলে সেই ঝামেলা মিটিয়ে নেবেন বলেও জানান তিনি।