শীতলকুচি কৃষক বাজারে ধান কেনা শুরু হতেই বিক্ষোভ

673

শীতলকুচি: লকডাউনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার ধান কেনা শুরু হতেই শীতলকুচি কৃষক বাজারে বিক্ষোভ দেখালেন কৃষকরা। কৃষকদের বিক্ষোভে সরগরম হয়ে ওঠে বাজার চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শীতলকুচি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। কৃষকদের সুবিধার্থে শীতলকুচি ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে নির্দিষ্ট দিনে ভাগ করে সেখানকার নির্দিষ্ট কৃষকদের কৃষক বাজারে ধান আনতে বলা হয়েছিল। এদিন খলিসামারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকদের ধান কেনার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। কিন্তু খলিসামারির কৃষকদের ধান প্রস্তুত না থাকায় বড় কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকদের ধান আনতে বলা হয়। বড় কৈমারির কৃষকদেরও ধান প্রস্তুত না থাকায় শেষে গোলেনাওহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকজন কৃষককে ধান আনতে বলা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকরা কৃষক বাজারে এসে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। তাঁরা জানান, এদিন ন্যায্যমূল্যে ধান কেনা শুরু হয়েছে শীতলকুচি কৃষক বাজারে। রাজ্য সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনে নেবার কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির তালিকায় নাম না থাকলে ধান কেনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাই কৃষকরা যাতে সরাসরি কৃষক বাজারে ধান দিতে পারে, সেই দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মালতী পাল, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রপিকুল ইসলাম প্রমুখ। তাঁদের সামনেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কৃষকরা। পরে শীতলকুচি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

- Advertisement -

সহিদুল মিয়াঁ নামে এক কৃষকের অভিযোগ, আমাদের কিষান কার্ড থাকলেও পঞ্চায়েত সমিতির স্লিপ ছাড়া ধান নেওয়া হচ্ছে না কৃষক বাজারে। আমরা সরাসরি কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে চাই। আরেক কৃষক শাহিনুর মিয়াঁ বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির স্লিপ চলে যাচ্ছে ফড়ে-পাইকাররা কাছে, বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। তাই স্বচ্ছভাবে ধান কেনার দাবিতে এদিন বিক্ষোভ দেখানো হয়। এদিনের ঘটনায় বিষয়ে বিজেপির সংশ্লিষ্ট মণ্ডল সভাপতি কনকচন্দ্র বর্মন বলেন, কাটমানি নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি তাদের তালিকায় নাম ঢোকায়। অবিলম্বে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা শুরু না করলে আমরা প্রতিবাদে নামব।

এবিষয়ে শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রপিকুল ইসলাম বলেন, একদিনে সকলের ধান কেনা সম্ভব নয়। তাই কৃষকদের ভাগে ভাগে ধান কিনছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। পঞ্চায়েত সমিতি ধান কেনার বিষয়ে কোনও স্লিপ দেয়নি। স্বচ্ছভাবে ধান কিনতে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সহায়তা করছে পঞ্চায়েত সমিতি। এতে ফড়ে-পাইকাররা সমস্যায় পড়েছে। তাই তাঁরা উস্কানি দিয়ে এধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। শীতলকুচির বিডিও শুভ্র দাস বলেন, বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধি পাঠানো হয়। সমস্যা মেটানো হয়েছে।