বায়ার্নের স্বপ্নে জল ঢেলে সেমিতে প্যারিস

প্যারিস : ২২ অগাস্ট, ২০২০ থেকে ১৪ এপ্রিল, ২০২১। লিসবন থেকে প্যারিস।

দুই ম্যাচ। একই প্রতিপক্ষ। একই স্কোর। কিন্তু মাথা নিচু করে মাঠা ছাড়া ফুটবলারদের জার্সির রংটা বদলে গিয়েছে।

- Advertisement -

গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে প্যারিস সাঁ জাঁকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে একই স্কোরে জিতেও হার মানলেন বাভারিয়ান জায়ান্টরা। কারণ, দুই পর্ব মিলিয়ে ফল ৩-৩ হলেও অ্যাওয়ে গোলের অ্যাডভান্টেজ পেলেন নেইমার-কিলিয়ান এমবাপেরা। সেমিফাইনালে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি বনাম বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবেন তাঁরা।

মিউনিখে প্যারিস ৩-২ গোলে জিতেছিল। ফলে প্যারিসে ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হত বায়ার্নকে। বিষয়টি প্রায় অসম্ভব হলেও পার্ক দ্য প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে মিরাকল ঘটবে বলে মনে করেছিলেন বায়ার্ন কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। কিন্তু মিরাকল ঘটানোর জন্য যথেষ্ট অস্ত্রশস্ত্র ছিল না তাঁর হাতে। ফ্লিক মূলত ভুগলেন গোল করার লোকের অভাবে। ঘরের মাঠে ৩১টি শট নিয়ে মাত্র দুগোল করেন টমাস মুলাররা। মঙ্গলবার ১৪ শটের পরও একমাত্র এরিক ম্যাক্সিম চৌপ-মোতিং ছাড়া কেউ লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। তিনটে নিশ্চিত গোল রুখে দেন প্যারিসের গোলরক্ষক কেলর নাভাস।

গোলপোস্ট ও গোলরক্ষক বাধা না হলে ম্যাচটা প্যারিসও জিততে পারত। ফ্লিকের বায়ার্ন মূলত হাইলাইন ডিফেন্স স্ট্র‌্যাটেজিতে খেলে। ফলে তাদের ডিফেন্ডাররা অনেকটাই উঠে আসে। প্রথম পর্বের মতো এবারও তাই কাউন্টার অ্যাটাকে ভরসা করেছিলেন প্যারিস কোচ মৌরিসিও পচেত্তিনো। প্রথমার্ধে নেইমারের দুটি শট পোস্টে লাগে, বায়ার্ন অধিনায়ক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের অন্তত দুবার নিশ্চিত গোল বাঁচান। ৭৮ মিনিটে এমবাপের গোল বাতিল করে ভিএআর। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁদের সেমিফাইনালে যাওয়া আটকাতে পারেনি বায়ার্ন।

গোলের জন্য ফ্লিকের ভরসা রবার্ট লেওয়ানডস্কি ও সার্জ গ্যানাব্রি না থাকায় দল সেভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। আবার মাঝমাঠে লিওন গোর্রেৎজা না থাকায় ডিফেন্স ও মাঝমাঠের দূরত্ব বেড়েছিল অনেকটাই। যদিও ফ্লিকের দাবি, দুপর্ব মিলিয়ে আমরা বেশি ভালো খেলেছি। তবে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে পেলাম না। এই ম্যাচ নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন, আমরা ফাইনাল থার্ডে গিয়ে তীক্ষ্নতা দেখাতে পারিনি। আমি এই ম্যাচে যে ফল আশা করেছিলাম সেটা হয়নি।

দায়িত্ব নিয়ে প্যারিসের দুই বড় প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা ও বায়ার্নের বিরুদ্ধে বদলা সম্পূর্ণ করেছেন পচেত্তিনো। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম সফল দুই দলকে ছিটকে দিয়েছেন। যা নিয়ে এই আর্জেন্টাইন কোচ বলছেন, একটা কঠিন ম্যাচ জিতলাম। এর কৃতিত্ব ফুটবলারদের। ওরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে। ম্যাচের আগে বায়ার্ন শিবির নিজেদের সেরা দাবি করে একাধিক কথা বলেছে। যদিও তাতে ভুল কিছু দেখছেন না পচেত্তিনো, ওরা আত্মবিশ্বাসী ছিল। গত কয়েকমাসে ওদের যা ফর্ম, তাতে হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি এতে কোনও অন্যায় দেখছি না। ওরা মাইন্ড গেম খেলতে চেয়েছিল। তবে আমরা ফোকাস হারাইনি।